শরীয়তপুরের নড়িয়ায় জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে প্রবাসীদের বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ উঠেছে। এ সময় বাড়িতে থাকা নারীদের মারধর ও অস্ত্রের মুখে ভয়ভীতি দেখানোরও অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। হামলায় দুই নারী আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
রোববার (১ নভেম্বর) রাত সাড়ে ৬টা থেকে ৭টার মধ্যে উপজেলার কেদারপুর ইউনিয়নের আউয়াল ঢালি বাড়ি (বিলের ঢালি বাড়ি) এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) শরীয়তপুর আদালতে মামলা করেছেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য রাসেল ঢালির স্ত্রী মুনমুন আক্তার। মামলায় চারজনের নাম উল্লেখ করে আরও ১৩-১৪ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে নড়িয়া থানার ওসিকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ওই বাড়ির সামাদ ঢালি, রাসেল ঢালি ও আকতার ঢালি দীর্ঘদিন ধরে ইতালি ও ওমানে বসবাস করেন। বাড়িতে নারী ও শিশু ছাড়া কোনো পুরুষ সদস্য থাকেন না। জমিজমা নিয়ে বিরোধের জেরে রাজিব মৃধা ও তামান্না আক্তারের নেতৃত্বে ৭-৮টি মোটরসাইকেলে করে ১৩-১৪ জন ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে বাড়িতে হামলা চালান বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, হামলাকারীরা বাড়িতে ঢুকে নারীদের অস্ত্রের মুখে ভয়ভীতি দেখিয়ে দরজা-জানালা, স্টিলের আলমারি, ওয়ারড্রপ, ফ্যান, চেয়ার-টেবিলসহ বিভিন্ন আসবাবপত্র ভাঙচুর ও তছনছ করেন। একপর্যায়ে বাড়ির বেড়ায় আগুন ধরিয়ে দেন তারা।
এ সময় বাড়িতে থাকা রুপা বেগম, নাদিয়া বেগম ও মুনমুন আক্তারকে মারধর করা হয় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। পরে হামলাকারীরা আলমারির চাবি নিয়ে সেখান থেকে নগদ ২ লাখ টাকা ও ৮ ভরি স্বর্ণালংকার নিয়ে যায় বলে অভিযোগ করেন বাদী। লুট হওয়া স্বর্ণালংকারের আনুমানিক বাজারমূল্য ১৩ লাখ টাকা বলে মামলায় দাবি করা হয়েছে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, হামলাকারীরা চলে যাওয়ার সময় মামলা করলে পরবর্তীতে এসে বাড়ির নারীদের ওপর নির্যাতন করার হুমকি দেন। এ ঘটনায় আতঙ্কে বাড়ির নারীরা বর্তমানে বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র অবস্থান করছেন।
আহত নাদিয়া আক্তার বলেন, জমিজমা বিরোধের জেরে রাজিব মৃধা ও তামান্নারা আমাদের বাড়িতে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ক্ষতি করেছে। তারা ১৩-১৪ জন লোক নিয়ে দেশীয় অস্ত্রসহ এসে ভাঙচুর ও লুটপাট করে। নগদ ২ লাখ টাকা ও ৮ ভরি স্বর্ণালংকার নিয়ে যায়। যাওয়ার সময় ঘরে আগুন ধরিয়ে দেয়। আমরা এ ঘটনার বিচার চাই।
রুপা বেগম বলেন, হামলাকারীদের ভয়ে এখন আমরা বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছি। আমরা প্রশাসনের সহযোগিতা চাই।
মামলার বাদী মুনমুন আক্তার অভিযোগ করেন, হামলার পর স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে এসে বিষয়টি দেখতে পান এবং নড়িয়া থানায় খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি পরিদর্শন করে।
এফপি/অ