Dhaka, Tuesday | 27 October 2026
         
English Edition
   
Epaper | Tuesday | 27 October 2026 | English
শিরোনাম:

ডোমারে অধিগ্রহণ করা জমির ন্যায্যমূল্যের দাবিতে মানববন্ধন

প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:১৩ পিএম  (ভিজিটর : ৮)

নীলফামারীর ডোমারে গ্রিড সাবস্টেশন নির্মাণের জন্য অধিগ্রহণ করা জমির ন্যায্য ক্ষতিপূরণের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত জমির মালিকেরা। তাঁদের অভিযোগ, তিন ফসলি জমির প্রতি শতাংশের মূল্য মাত্র ১২ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা স্থানীয় বাজারদরের তুলনায় অনেক কম।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার বড়রাউতা গ্রামের সাহার উদ্দিন পাড়ায় এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

মানববন্ধনে অংশ নেওয়া জমির মালিকেরা জানান, ‘ঢাকা অ্যান্ড ওয়েস্টার্ন জোন ট্রান্সমিশন গ্রিড এক্সপানশন’ প্রকল্পের আওতায় ১৩২/৩৩ কেভি গ্রিড সাবস্টেশন নির্মাণের জন্য তাঁদের মোট ৪৯৭ শতাংশ তিন ফসলি জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। জেলা প্রশাসনের নির্ধারিত মূল্য অনুযায়ী, প্রতি শতাংশ জমির ক্ষতিপূরণ দেওয়া হচ্ছে ১২ হাজার টাকা। তাঁদের দাবি, এ মূল্য বর্তমান বাজারদরের তুলনায় অনেক কম।

ক্ষতিগ্রস্তদের ভাষ্য, জমির ন্যায্য মূল্য না পাওয়ায় তাঁরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন। অধিগ্রহণের ক্ষতিপূরণ দিয়ে অন্য এলাকায় সমপরিমাণ জমি কেনাও সম্ভব হচ্ছে না। এতে তাঁদের অনেকেই কৃষিজমি হারিয়ে জীবিকা নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়তে পারেন। এ পরিস্থিতিতে তাঁরা সরকারের প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

স্থানীয় জমির মালিকদের দাবি, সম্প্রতি প্রকল্প এলাকার আশপাশে প্রতি শতাংশ জমি দুই থেকে আড়াই লাখ টাকা দরে কেনাবেচা হয়েছে। অথচ অধিগ্রহণের জন্য নির্ধারিত মূল্য স্থানীয় বাজারদরের প্রতিফলন ঘটাচ্ছে না।

জমির মালিকেরা জানান, তাঁরা সাবস্টেশন নির্মাণের বিরোধী নন। তবে বাজারদরের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রতি শতাংশ জমির ক্ষতিপূরণ কমপক্ষে আড়াই লাখ টাকা নির্ধারণের দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে আবেদনও করেছেন তাঁরা।

জমির মালিক আব্দুল মজিদ বলেন, জেলা প্রশাসক ও বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাঁদের একটি বৈঠক হয়েছিল। সেখানে বিদ্যুৎ বিভাগের অন্যান্য সাবস্টেশনের জন্য কেনা জমির দামের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল বলে তিনি দাবি করেন।

তিনি বলেন, “ডিসি স্যার আমাদের জমির দাম ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা করে দেওয়ার কথা বলেছিলেন। কিন্তু এখন দেওয়া হচ্ছে শতাংশপ্রতি ১২ হাজার টাকা। এটা কীভাবে সম্ভব? ডিসি স্যার যে দাম বলেছিলেন, সেটিও আমাদের জমির দামের চেয়ে কম। তারপরও আমরা তা মেনে নিয়েছিলাম। প্রয়োজনে জান দেব, তবুও জমি দেব।”

জমির মালিক রুপালী বেগম বলেন, “আমরা মধ্যবিত্ত পরিবারের মানুষ। সংসারে যতটুকু জমি আছে, তার বেশির ভাগই এখানে। বর্তমানে এসব জমি বিঘাপ্রতি ২৫ থেকে ৩০ লাখ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এর অর্ধেক দাম পেলেও আমাদের সমস্যা হতো না। কিন্তু যে মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে, তা বাজারদরের চার ভাগের এক ভাগও নয়।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা কৃষক মানুষ। এখানে জমি বিক্রি করে অন্য জায়গায় জমি কিনে চাষাবাদ করে চলব—এটাই আমাদের পরিকল্পনা। কিন্তু জমির ন্যায্য দাম না পেলে অন্য জায়গায় জমি কিনব কীভাবে? আর চাষাবাদ করেই বা কীভাবে সংসার চালাব?”

আরেক জমির মালিক রবিউল ইসলাম বলেন, বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে অন্যান্য সাবস্টেশনের জন্য কেনা জমির সর্বনিম্ন দামের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ক্ষতিপূরণ নির্ধারণের বিষয়ে আলোচনা হয়েছিল বলে তাঁরা জানতে পেরেছেন।

রবিউল ইসলাম আরও বলেন, “নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আসার পর মামলা চলমান থাকা অবস্থায় জমি বিদ্যুৎ কোম্পানির নামে রেজিস্ট্রি করে দেওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে বলে আমরা শুনতে পাচ্ছি। আমরা চাই, আমাদের জমির ন্যায্য মূল্য দেওয়া হোক। মামলা নিষ্পত্তি করে তারপর জমি রেজিস্ট্রি করা হোক।” ক্ষতিগ্রস্ত জমির মালিকেরা তাঁদের দাবির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করেছেন।

এফপি/মিব
সর্বশেষ সংবাদ  
সর্বাধিক পঠিত  
YOU MAY ALSO LIKE  
Editor & Publisher: S. M. Mesbah Uddin
Editorial, News and Commercial Offices: Akram Tower, 15/5, Bijoynagar (9th Floor), Ramna, Dhaka-1000
Call: 01713-180024, 01675-383357 & 01840-000044
E-mail: [email protected], [email protected], [email protected]
...
🔝