শারদীয় দুর্গাপূজার প্রতিমা বিসর্জন ঘিরে রাজধানী ঢাকায় জোরদার নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। বিসর্জন কার্যক্রম নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে মহানগরীর বিভিন্ন স্থানে ১৬ হাজারের বেশি পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। এবার রাজধানীর ৩৩টি স্থানে প্রতিমা বিসর্জন অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রতিমা বিসর্জন হবে ওয়াইজঘাট এলাকায়।
বুধবার পলাশী মোড়ে প্রতিমা বিসর্জনের নিরাপত্তা ও প্রস্তুতি নিয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান ডিএমপির যুগ্ম পুলিশ কমিশনার (অপারেশন) মো. শহীদুল্লাহ।
তিনি বলেন, প্রতিমা বিসর্জনকে কেন্দ্র করে ঢাকা মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায় ১৬ হাজারের বেশি পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। নগরীর ৩৩টি পয়েন্টে বিসর্জন কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হবে। এসব স্থানের মধ্যে ওয়াইজঘাটে সবচেয়ে বেশি প্রতিমা বিসর্জন হবে।
মো. শহীদুল্লাহ জানান, ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির থেকে শোভাযাত্রা শুরু হয়ে ওয়াইজঘাটে গিয়ে শেষ হবে। সেখানে প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হবে। শোভাযাত্রায় অংশ নেওয়ার জন্য ইতোমধ্যে প্রতিমাগুলো নির্ধারিত স্থানে রাখা হচ্ছে। শিগগিরই শোভাযাত্রা শুরু হবে বলেও জানান তিনি।
নিরাপত্তায় ডিবি, সোয়াট ও বম্ব ডিসপোজাল ইউনিটপ্রতিমা বিসর্জন ঘিরে নিরাপত্তা ব্যবস্থার বিষয়ে ডিএমপির এই কর্মকর্তা বলেন, পুলিশের ইউনিফর্মধারী সদস্যদের পাশাপাশি গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি), কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি), স্পেশাল রেসপন্স ইউনিট (এসআরইউ), সোয়াট ও বম্ব ডিসপোজাল ইউনিট মোতায়েন করা হয়েছে। এ ছাড়া আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) এবং এসআরবির সদস্যরাও নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করছেন।
তিনি বলেন, এবার ঢাকা মহানগরীতে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এখন পর্যন্ত কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। বাকি সময়েও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে তা মোকাবিলায় পুলিশের সর্বোচ্চ প্রস্তুতি রয়েছে উল্লেখ করে মো. শহীদুল্লাহ বলেন, এ জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
নগরবাসীর সহযোগিতা কামনাপ্রতিমা বিসর্জন কার্যক্রম শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে নগরবাসীর সহযোগিতা কামনা করেছেন ডিএমপির এই কর্মকর্তা।
তিনি বলেন, সবাই যেন উৎসাহ-উদ্দীপনা ও আনন্দের মধ্য দিয়ে পূজার আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে সহযোগিতা করেন। প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে দুর্গাপূজার সমাপ্তি পর্যন্ত সার্বিক কার্যক্রম নির্বিঘ্ন রাখতে নগরবাসীর সহযোগিতা প্রয়োজন।