নওগাঁর মান্দায় শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন ও আর্থিক সহায়তা দিয়েছেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এবং মান্দা উপজেলা বিএনপির সভাপতি এম এ মতীন। এ সময় একটি মন্দিরের সংস্কার ও উন্নয়নকাজের জন্য তিনি এককালীন ৩০ হাজার টাকা নগদ অনুদান দেন। পাশাপাশি ব্যক্তিগত তহবিল থেকে বিভিন্ন পূজামণ্ডপেও আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন তিনি।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সন্ধ্যায় উপজেলার গণেশপুর, পরানপুর, মান্দা সদর ও নূরুল্যাবাদ ইউনিয়নের বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শনকালে এসব সহায়তা দেন এম এ মতীন।
জানা গেছে, মান্দা সদর ইউনিয়নের নবগ্রাম সার্বজনীন শিব মন্দিরের সংস্কার ও উন্নয়নকাজের জন্য মন্দির কমিটির সদস্যদের হাতে নগদ ৩০ হাজার টাকা তুলে দেন তিনি। এর আগে বানিসর-কালিতলা সার্বজনীন শিব মন্দির কমিটির আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে একটি পানির পাম্প ও পানির ট্যাংকের ব্যবস্থা করেন এম এ মতীন। এ ছাড়া কামারকুড়ি বৈরাগীপাড়ার মোড়ের মন্দির পরিদর্শনকালে সেটির উন্নয়নে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন তিনি।
পূজামণ্ডপ পরিদর্শনকালে এম এ মতীন সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শারদীয় শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। এ সময় তিনি মন্দির কমিটির সদস্য ও ভক্তদের সঙ্গে কথা বলে পূজার পরিবেশ, নিরাপত্তাব্যবস্থা এবং মন্দিরগুলোর বিভিন্ন সমস্যার খোঁজখবর নেন।
এম এ মতীন বলেন, “বিএনপি সব সময় ধর্ম-বর্ণনির্বিশেষে দেশের সব মানুষের অধিকার, নিরাপত্তা ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানে বিশ্বাস করে। এ দেশে হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান—সবাই সমান অধিকার নিয়ে বসবাস করবেন। ‘ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার’—এটাই আমাদের রাজনৈতিক দর্শন।”
তিনি আরও বলেন, “ধর্মীয় উৎসবকে কেন্দ্র করে কেউ যেন আতঙ্কিত না হন, সেদিকে সবাইকে খেয়াল রাখতে হবে। প্রত্যেক নাগরিকের নিরাপদে ও নির্বিঘ্নে নিজ নিজ ধর্ম পালনের অধিকার রয়েছে। বিএনপি সব ধর্মের মানুষের অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”
বিগত সরকারের সমালোচনা করে বিএনপির এই নেতা বলেন, “গত ১৭ বছরে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ বিভিন্নভাবে নির্যাতন, জমি দখল ও নিরাপত্তাহীনতার শিকার হয়েছেন। বিএনপির নেতাকর্মীরা সব সময় তাঁদের পাশে থাকার চেষ্টা করেছেন। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অধিকার রক্ষায় কথা বলতে গিয়ে অনেক নেতাকর্মী হয়রানি ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।”
এম এ মতীন আরও বলেন, “শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান প্রবর্তিত বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের মূল ভিত্তি হচ্ছে দেশের মানুষের অধিকার এবং স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষা। ‘সবার আগে বাংলাদেশ’—এই আদর্শ নিয়েই বিএনপি রাজনীতি করে আসছে। একটি কুচক্রী মহল দেশকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্র করছে। এ বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।”
এদিকে, পূজামণ্ডপ পরিদর্শন এবং মন্দিরের উন্নয়নে আর্থিক সহায়তা দেওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় পূজা উদযাপন কমিটির সদস্যরা।
স্থানীয় একটি পূজা উদযাপন কমিটির এক সদস্য বলেন, “প্রতিবছরই বিএনপির নেতারা পূজার সময় আমাদের খোঁজখবর নেন। এবারও তাঁরা মণ্ডপে এসে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন এবং আর্থিক সহায়তা দিয়েছেন। বিশেষ করে মন্দিরের উন্নয়নে সহযোগিতার উদ্যোগকে আমরা স্বাগত জানাই।”
এ সময় এম এ মতীনের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন মান্দা উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বেলাল হোসেন খান, সাংগঠনিক সম্পাদক ও নওগাঁ জজকোর্টের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট কুমার বিশ্বজিৎ, দপ্তর সম্পাদক ও ভালাইন ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আবুল কালাম আজাদ, স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক আজিজুল হক ওয়ালটন বাবু, উপজেলা যুবদলের সাবেক আহ্বায়ক নূরুল ইসলাম, অ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান, শরিফুল ইসলাম, উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও জেলা ছাত্রদলের সহসভাপতি আব্দুল হালিম দুলাল, পরানপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি গোলাম মোস্তফা, সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম, মান্দা সদর ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক হামিদুর রহমান শাহানা, গণেশপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি শহিদুল ইসলাম চৌধুরী এবং সাধারণ সম্পাদক নাজিম উদ্দীন মন্ডলসহ বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
পূজা উদযাপন কমিটির নেতারা শান্তিপূর্ণ পরিবেশে দুর্গাপূজা উদযাপন নিশ্চিত করতে প্রশাসনের পাশাপাশি রাজনৈতিক নেতাদের সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।
এফপি/মিব