শান্তি, সম্প্রীতি ও নান্দনিকতার এক অনন্য সমন্বয়ে নতুন রূপে সাজছে প্রিয় চট্টগ্রাম। নগরীর ঐতিহ্যবাহী নন্দনকানন বৌদ্ধ মন্দিরের সামনের সড়কে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে নির্মিত হয়েছে দৃষ্টিনন্দন আলোকসজ্জিত গোলচত্বর। আধুনিক স্থাপত্যশৈলী, নান্দনিক পরিকল্পনা ও সৌন্দর্যবর্ধনের এই উদ্যোগ নগরীর সৌন্দর্যে যোগ করেছে নতুন মাত্রা।
পদ্মফুলের মনোমুগ্ধকর নকশা, বর্ণিল আলোকসজ্জা ও নান্দনিক স্থাপত্যে সজ্জিত এই গোলচত্বর এখন নগরবাসীর দৃষ্টি আকর্ষণ করছে। বৌদ্ধ দর্শনের মৈত্রী, করুণা, অহিংসা ও শান্তির চিরন্তন আদর্শের সঙ্গে পদ্মফুলের প্রতীকী সৌন্দর্য এখানে সৃষ্টি করেছে এক অনন্য আবহ। এটি শুধু একটি সৌন্দর্যবর্ধন স্থাপনা নয়, বরং চট্টগ্রামের অসাম্প্রদায়িক চেতনা, ধর্মীয় সম্প্রীতি ও মানবিক মূল্যবোধের প্রতীক হয়ে উঠেছে।
বৌদ্ধ দর্শনে পদ্মফুল নির্মলতা, প্রজ্ঞা ও আলোকিত জীবনের প্রতীক। নন্দনকাননের এই স্থাপনায় পদ্মের নান্দনিক ব্যবহার বুদ্ধের শান্তি ও মৈত্রীর দর্শনকে প্রতীকীভাবে তুলে ধরেছে। নগরীর ব্যস্ততার মাঝে এই স্থাপনা মানুষের মনে প্রশান্তি ও সৌন্দর্যের অনুভূতি সৃষ্টি করছে।
চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, “চট্টগ্রাম শান্তি, সম্প্রীতি ও বৈচিত্র্যের শহর। নগরীর সৌন্দর্য বৃদ্ধি, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং একটি আধুনিক ও বাসযোগ্য নগর গড়ে তোলা আমাদের অন্যতম লক্ষ্য। নন্দনকাননের এই নান্দনিক গোলচত্বর শুধু সৌন্দর্যবর্ধনের একটি উদ্যোগ নয়, এটি চট্টগ্রামের ধর্মীয় সম্প্রীতি, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও ঐতিহ্যের প্রতীক। বুদ্ধের মৈত্রী, করুণা ও অহিংসার দর্শন মানবতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা। সেই শান্তির বার্তা ধারণ করে চট্টগ্রামকে আরও সুন্দর ও আকর্ষণীয় নগর হিসেবে গড়ে তুলতে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।”
নগরীর সৌন্দর্যবর্ধন ও আধুনিকায়নের ধারাবাহিকতায় এ ধরনের উদ্যোগ চট্টগ্রামের নগর পরিকল্পনায় নতুন মাত্রা যোগ করছে। গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও স্থাপনাগুলোকে নান্দনিক রূপ দেওয়ার মাধ্যমে শহরের পরিবেশ আরও পরিচ্ছন্ন, আকর্ষণীয় ও প্রাণবন্ত হয়ে উঠছে।
চট্টগ্রাম দীর্ঘদিন ধরে ধর্মীয় সম্প্রীতি, সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের ঐতিহ্যে সমৃদ্ধ। নন্দনকাননের এই গোলচত্বর সেই ঐতিহ্যকে আরও উজ্জ্বল করে তুলেছে। বুদ্ধের শান্তি ও মৈত্রীর বার্তা ধারণ করে এটি চট্টগ্রামের সম্প্রীতির এক নান্দনিক প্রতীক হয়ে থাকবে বলে প্রত্যাশা নগরবাসীর।
এফপি/অ