প্রকাশ: বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৩২ পিএম (ভিজিটর : ৪০)
সংগৃহীত ছবি
কক্সবাজার শহরের কলাতলীতে সরকারি জমিতে নির্মাণাধীন অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে নিতে একদিনের সময় বেঁধে দিয়েছে জেলা প্রশাসন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিজ উদ্যোগে স্থাপনা সরিয়ে না নিলে বড় ধরনের উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হবে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট তাসনীম জাহান।
জানা যায়, কলাতলীর ৪ দশমিক ৫০ একর বিশাল সরকারি জমি দখল করে একটি চক্র স্থাপনা নির্মাণ করছে। সেখানে ইতোমধ্যে ১৯টি দোকানের নির্মাণকাজ চলমান রয়েছে। দোকানগুলো হস্তান্তরের জন্য দিন-রাত কাজ করা হচ্ছে বলে জানা গেছে। এর আগে আরও ২০টি দোকানঘর মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে ভাড়া দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
সরকারি জমি দখলের বিষয়টি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আসে। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত মঙ্গলবার অভিযুক্তদের বরাবর নোটিশ দেওয়া হয়। নোটিশে একদিনের সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে।
নোটিশে বলা হয়েছে, সরকারি জমিতে স্থাপনা নির্মাণ করা আইনগতভাবে অপরাধ। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নিজ উদ্যোগে স্থাপনা সরিয়ে না নিলে উচ্ছেদসহ অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নোটিশের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত ব্যক্তি কামরুল বলেন, জেলা প্রশাসনের একটি নোটিশ তিনি পেয়েছেন। নোটিশ পাওয়ার পর স্থাপনা নির্মাণের কাজ বন্ধ রয়েছে। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বিকেলের মধ্যে সব স্থাপনা নিজ উদ্যোগে সরিয়ে নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান বলেন, বিষয়টি ইতোমধ্যে জেলা প্রশাসনের পর্যবেক্ষণে রয়েছে। গণমাধ্যমের মাধ্যমে বিষয়টি জানার পর জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করা হয়েছে এবং নির্মাণাধীন মার্কেটটি এক দিনের মধ্যে নিজ উদ্যোগে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বাতিলকৃত সরকারি প্লটে যেকোনো ধরনের স্থাপনা নির্মাণ সম্পূর্ণ বেআইনি। বর্তমানে ওই জায়গা সরকারের। সরকারি সম্পত্তি রক্ষায় প্রশাসন জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করবে।
এর আগে গত ১৭ আগস্ট শহরের পর্যটন জোনের সুগন্ধায় প্রায় ৩ একর সরকারি খাস জমিতে উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে দখলমুক্ত করে জেলা প্রশাসন। ওই জমির বাজারমূল্য প্রায় ২০০ কোটি টাকা বলে জানা যায়।
এ ছাড়া ২০২৫ সালের ৪ জুন সুগন্ধায় সাচ্চিদানন্দ সেন গুপ্ত নামের এক ব্যক্তির দখলে থাকা ২ দশমিক ৩৯ শতক সরকারি জমি দখলমুক্ত করে প্রশাসন। ওই অভিযানে ১১০টি দোকান গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। পাশাপাশি চারপাশে দেওয়া টিনের ঘেরাওও উচ্ছেদ করা হয়। উচ্ছেদ হওয়া জমির মূল্য কয়েকশো কোটি টাকা বলে জানা গেছে।