প্রকাশ: বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:৫৫ পিএম (ভিজিটর : ১১)

৩৭ বছর ধরে বন্ধ থাকা বাংলাদেশ তাঁত বোর্ডের আওতাধীন সার্ভিসেস অ্যান্ড ফ্যাসিলিটিজ সেন্টার (এসএফসি) ও বেসিক সেন্টার পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এ লক্ষ্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকা তাঁতকেন্দ্র দুটি সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন বাংলাদেশ তাঁত বোর্ডের চেয়ারম্যান মো. জাকির হোসেন সিদ্দিকী।
গতকাল মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে তিনি কেন্দ্র দুটি পরিদর্শন করেন। এ সময় বন্ধ থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোর অবকাঠামোগত অবস্থা, সরকারি জমির বর্তমান পরিস্থিতি এবং স্থানীয় তাঁতশিল্পের সম্ভাবনা নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
পরিদর্শন শেষে বাংলাদেশ তাঁত বোর্ডের চেয়ারম্যান মো. জাকির হোসেন সিদ্দিকী বলেন, বন্ধ থাকা কেন্দ্রগুলো কীভাবে কার্যকরভাবে কাজে লাগানো যায়, সে বিষয়ে পরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে। পুরোনো অবকাঠামো সংস্কার কিংবা প্রয়োজনে পুনর্নির্মাণের পাশাপাশি তাঁত বোর্ডের জমি বেদখলে থাকলে তা উদ্ধারের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
স্থানীয়রা জানান, একসময় বাঞ্ছারামপুরের গ্রামীণ অর্থনীতিতে তাঁতশিল্পের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। কিন্তু দীর্ঘদিনের অবহেলা ও নানা প্রতিকূলতায় ঐতিহ্যবাহী এই শিল্প অনেকটাই সংকুচিত হয়ে পড়েছে। বন্ধ থাকা সরকারি তাঁতকেন্দ্রগুলো আধুনিকায়নের মাধ্যমে পুনরায় চালু করা গেলে তাঁতশিল্পের বিকাশের পাশাপাশি স্থানীয় কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নতুন গতি আসার সম্ভাবনা রয়েছে।
পরিদর্শনকালে বাংলাদেশ তাঁত বোর্ডের সদস্য (অর্থ) ড. মো. মঞ্জুরুল ইসলাম, পরিচালক (প্রশাসন) কে এম আবুল কালাম আজাদ, ব্যবস্থাপক (অপারেশন) মো. মনজুরুল ইসলাম এবং বাঞ্ছারামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আল ইমরান খান, এ ছাড়া স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এবং বাঞ্ছারামপুর উপজেলা যুবদলের নেতাকর্মীরা পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, বাঞ্ছারামপুরের ছলিমাবাদ ইউনিয়নের তিতাস নদীর পূর্ব পাড়ে অবস্থিত তাঁত বোর্ড ফ্যাসিলিটিজ সেন্টারটি ৩৭ বছরেও চালু যায়নি। এদিকে বছরের পর বছর অযত্ন অবহেলায় পড়ে নষ্ট হচ্ছে সেন্টারের লাখ লাখ টাকার যন্ত্রপাতি।
১৯৮৯ সালে ২৬২ শতক জমির ওপর প্রায় ১৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হয় এ সেন্টার।এখানে জমির মূল্য অন্তত বেশী হওয়ায় বেশ কিছু জায়গা বেদখল হয়ে আছে। সবকিছু মিলিয়ে তাঁত ফ্যাসিলিটিজ সেন্টারটির মোট মূল্য হবে শতকোটি টাকার উপরে।
এটি নির্মাণের উদ্দেশ্য ছিল বাঞ্ছারামপুরসহ আশপাশের উপজেলার তাঁতিদের জন্য রং, মাকু ও সুতার চাহিদা পূরণ এবং এলাকার বেকারদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা। কিন্তু যাদের জন্য প্রতিষ্ঠানটি নির্মাণ করা হয়েছিল সেই তাঁতিরা এখন পর্যন্ত এর কোনো সুফল পাননি। আর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নির্মিত আবাসিক ডরমেটরিসহ ভবনগুলোর গায়ে শ্যাওলা পড়েছে। এ যাবত বহু কর্মকর্তা, সচিব, মন্ত্রী পরিদর্শন করে তাত সেন্টারটি চালুর আশ্বাস দিলেও, সেগুলো আর বাস্তবায়ন হয়নি।
এফপি/স