চট্টগ্রাম বন্দরে ভারত থেকে মিথ্যা ঘোষণার মাধ্যমে আমদানি করা একটি চালান থেকে প্রায় ৮ দশমিক ২৫ মেট্রিক টন তামাক বা তামাকসদৃশ সামগ্রী, বিভিন্ন রঙের সন্দেহজনক পাউডার এবং প্রায় ৯ দশমিক ২৬ মেট্রিক টন স্ক্র্যাপ পেপার জব্দ করেছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর (সিআইআইডি)। চালানটির ঘোষণাপত্রে পণ্যের যে বিবরণ দেওয়া হয়েছিল, কায়িক পরীক্ষায় তার সঙ্গে বাস্তবে পাওয়া পণ্যের বড় ধরনের অমিল ধরা পড়ে। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে।
কাস্টমস সূত্র জানায়, গত ২৭ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম বন্দরে দুটি হাউজ বিল অব ল্যান্ডিং (বি/এল)-এর আওতায় আসা মোট ২ হাজার ৪০টি প্যাকেজের কায়িক পরীক্ষা করা হয়। এতে মোট ১৭ হাজার ৫১৩ দশমিক ৪ কেজি পণ্য পাওয়া যায়।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) জানায়, কলকাতা থেকে এমভি উদ্দীপন এক্সপ্রেস জাহাজে চালানটি ২০ সেপ্টেম্বর যাত্রা করে ২২ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছায়। প্রথম হাউজ বি/এলে 'পান মশলা ও জর্দা' ঘোষণা দিয়ে ৮ হাজার ৯৭৪ কেজি পণ্য আমদানির তথ্য দেওয়া হলেও কায়িক পরীক্ষায় ৪৭০টি প্যাকেজে ৮ হাজার ২৫০ দশমিক ৪ কেজি তামাক বা তামাকসদৃশ সামগ্রী পাওয়া যায়। এসবের মধ্যে ডার্ক ব্রাউন, ব্রাউন, গ্রে ও সাদা রঙের বিভিন্ন ধরনের পণ্য ছিল। একই সঙ্গে বিভিন্ন রঙের পাউডারজাত পদার্থও পাওয়া যায়, যা প্রাথমিকভাবে সন্দেহজনক বলে মনে হচ্ছে। তবে এসব পদার্থে মাদক বা অন্য কোনো নিষিদ্ধ উপাদান রয়েছে কি না, তা পরীক্ষাগারে রাসায়নিক বিশ্লেষণের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।
দ্বিতীয় হাউজ বি/এলে ‘প্রিন্টেড পেপার ক্যাটালগ’ হিসেবে ৯ হাজার ৮৫৯ দশমিক ৬০ কেজি পণ্যের ঘোষণা দেওয়া হলেও কায়িক পরীক্ষায় প্রায় ৯ হাজার ২৬৩ কেজি স্ক্র্যাপ পেপার পাওয়া যায়। এতে ঘোষিত পণ্য ও প্রকৃত পণ্যের মধ্যে স্পষ্ট অসামঞ্জস্য ধরা পড়ে।
আমদানি নথিতে আমদানিকারক হিসেবে ‘অথৈ এন্টারপ্রাইজ’-এর নাম উল্লেখ থাকলেও প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী দাবি করেছেন, চালানটির বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না। লিখিতভাবে এনবিআরকে তিনি জানিয়েছেন, কোনো অসাধু চক্র তাদের প্রতিষ্ঠানের নাম ও আমদানি–সংক্রান্ত তথ্য ব্যবহার করে চালানটি এনেছে। প্রকৃত জড়িতদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ারও আবেদন জানিয়েছেন তিনি।
তবে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর, চট্টগ্রামের সহকারী পরিচালক আমিনুল হক বলেন, পূর্ব অভিজ্ঞতা অনুযায়ী আমদানিকারকের সম্পৃক্ততা ছাড়া এ ধরনের চালান দেশে আনা সম্ভব নয়। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করা হবে।
কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর জানিয়েছে, চালানটির প্রকৃত আমদানিকারক, ঘোষণায় অসত্য তথ্য দেওয়ার কারণ এবং সন্দেহজনক পাউডারের প্রকৃতি নির্ধারণে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
এফপি/অ