Dhaka, Monday | 28 September 2026
         
English Edition
   
Epaper | Monday | 28 September 2026 | English
শিরোনাম:

কক্সবাজার বিমানবন্দরে আন্তর্জাতিক টার্মিনালের যাত্রা শুরু

প্রকাশ: সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:৪১ পিএম  (ভিজিটর : ৩২)

কক্সবাজার বিমানবন্দরের নবনির্মিত আন্তর্জাতিক টার্মিনালে পরীক্ষামূলকভাবে ফ্লাইট পরিচালনা শুরু হয়েছে।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) প্রায় ১৮ হাজার বর্গমিটার আয়তনের নতুন টার্মিনাল দিয়ে প্রথমবারের মতো ফ্লাইট পরিচালনা করা হয়।

আধুনিক এই টার্মিনালের প্রথম দিনের সেবা নিয়ে যাত্রীদের মধ্যেও দেখা গেছে উচ্ছ্বাস। প্রশস্ত জায়গা, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ ও দ্রুত লাগেজ পাওয়ার সুবিধায় সন্তুষ্টি জানিয়েছেন তারা।

আবদুর রহমান নামে এক যাত্রী বলেন, ঢেউয়ের আদলে তৈরি নতুন টার্মিনালটি দেখতে বেশ সুন্দর। পুরোনো টার্মিনালের তুলনায় এখানে পরিচ্ছন্নতা বেশি এবং হয়রানিও কম হয়েছে। লাগেজও সহজে পাওয়া গেছে।

বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অক্টোবর থেকে কক্সবাজারে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চালুর লক্ষ্য নিয়ে টার্মিনালটি পরীক্ষামূলকভাবে চালু করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনার জন্য রানওয়ে ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামোর কাজও শেষ হয়েছে।

সম্প্রসারণের পর কক্সবাজার বিমানবন্দরের রানওয়ের দৈর্ঘ্য দাঁড়িয়েছে ১০ হাজার ৭০০ ফুট। এর প্রায় ১ হাজার ৭০০ ফুট সমুদ্রের ওপর ব্লক বসিয়ে নির্মাণ করা হয়েছে। নতুন রানওয়েতে বড় আকারের ওয়াইড-বডি উড়োজাহাজ ওঠানামার সক্ষমতা তৈরি হয়েছে। উন্নত করা হয়েছে রানওয়ে ও এয়ারফিল্ড লাইটিং ব্যবস্থাও। রানওয়েটিকে ক্যাটাগরি-২ অপারেশনের উপযোগী করার কাজও শেষ হয়েছে।

কক্সবাজার বিমানবন্দর রানওয়ে সম্প্রসারণ প্রকল্পের কো-অর্ডিনেটর এম. মোশাররফ হোসেন বলেন, রানওয়ের নির্মাণ, লাইটিংসহ সংশ্লিষ্ট সব কাজ শেষ হয়েছে। এখন এটি উদ্বোধনের অপেক্ষায়।

প্রায় ১৭ হাজার ৯৫৫ বর্গমিটার আয়তনের আন্তর্জাতিক টার্মিনালে যাত্রীসেবার জন্য রয়েছে ১৪টি চেক-ইন কাউন্টার ও ১০টি ইমিগ্রেশন ডেস্ক। লাগেজ সংগ্রহের জন্য রয়েছে দুটি ব্যাগেজ ক্লেইম বেল্ট। নিরাপত্তার জন্য স্থাপন করা হয়েছে সাতটি স্ক্যানার ও আধুনিক মেটাল ডিটেকশন ব্যবস্থা। যাত্রীদের চলাচলের সুবিধায় রয়েছে চারটি এসকেলেটর ও ছয়টি লিফট। রয়েছে বোর্ডিং ব্রিজ ও আধুনিক লাগেজ হ্যান্ডলিং সিস্টেমও।

বেবিচকের সাবস্টেশন প্রকৌশলী মো. সোহেল রানা বলেন, বছরে প্রায় ২০ লাখ যাত্রী পরিচালনার সক্ষমতা নিয়ে টার্মিনালটির নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে। প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম স্থাপন ও পরীক্ষামূলক কার্যক্রমও শেষ হয়েছে।

পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী নেতা জয়নাল আবেদীন হাজারি বলেন, আন্তর্জাতিক টার্মিনাল চালু হলে কক্সবাজারের পর্যটন ও অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে। বিদেশি পর্যটকের পাশাপাশি পণ্য পরিবহনের সুযোগও বাড়তে পারে।

কক্সবাজার চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সাবেক সভাপতি আবু মোরশেদ চৌধুরী খোকা বলেন, আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের পাশাপাশি ট্রানজিট ও রিফুয়েলিং সুবিধা চালু করা গেলে রাজস্ব আয়ের নতুন ক্ষেত্র তৈরি হতে পারে। এজন্য কাস্টমস, ইমিগ্রেশন, কার্গো ব্যবস্থাপনা ও প্রয়োজনীয় জনবল নিশ্চিত করা জরুরি।

তবে নিয়মিত আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে পর্যাপ্ত যাত্রী নিশ্চিত করাকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন পর্যটন উদ্যোক্তা ও হোটেল ওশান প্যারাডাইসের পরিচালক আবদুল কাদের মিশু। তিনি বলেন, বড় অবকাঠামোর সুফল পেতে নিয়মিত আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চালু ও পর্যাপ্ত যাত্রী নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ।

কক্সবাজার বিমানবন্দরের পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) মো. গোলাম মোর্তজা হোসেন বলেন, আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনার জন্য বিমানবন্দর প্রস্তুত। প্রয়োজনীয় জনবলও রয়েছে। নতুন রানওয়ে ও টার্মিনালসহ সবকিছু ঠিকঠাক রয়েছে এবং আন্তর্জাতিক যাত্রীদের সেবা দিতে কোনো সমস্যা হবে না বলে আশা করছেন তারা।

এফপি/র

সর্বশেষ সংবাদ  
সর্বাধিক পঠিত  
YOU MAY ALSO LIKE  
Editor & Publisher: S. M. Mesbah Uddin
Editorial, News and Commercial Offices: Akram Tower, 15/5, Bijoynagar (9th Floor), Ramna, Dhaka-1000
Call: 01713-180024, 01675-383357 & 01840-000044
E-mail: [email protected], [email protected], [email protected]
...
🔝