পর্যটন নগরী কক্সবাজারের কলাতলী হোটেল-মোটেল জোনে সরকারি খাস জমি দখল করে কোটি কোটি টাকায় প্লট ও দোকান বরাদ্দ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে একটি সংঘবদ্ধ চক্রের বিরুদ্ধে। ডলফিন মোড়সংলগ্ন বৈশাখী রেস্তোরাঁ এলাকায় প্রায় সাড়ে চার একর জমি টিনের বেড়া দিয়ে ঘিরে পাকা দেয়াল ও দোকান নির্মাণের কাজ চলছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
স্থানীয় সূত্র জানায়, বি.এস. খতিয়ান নম্বর-১-এর ৩০ নম্বর প্লটটি নিয়ে আদালতে মামলা চলমান। প্লটটিতে স্থিতাবস্থার আদেশ থাকলেও সেখানে নির্মাণকাজ চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, কলাতলী রোডের পাশে বিশাল এলাকাজুড়ে টিনের বেড়া দেওয়া হয়েছে। ভেতরে কয়েকজন শ্রমিককে পাকা দেয়াল ও দোকান নির্মাণের কাজ করতে দেখা যায়। নির্মাণস্থলে টানানো একটি নোটিশে হাইকোর্টের রিট নম্বর ৩৪৭৫/২০২৪-এর নির্দেশনা অনুযায়ী প্লটটিতে স্থাপনা নির্মাণের ওপর স্থিতাবস্থা থাকার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। নোটিশে জমির পরিমাণ ৪.৫০ একর এবং প্রবেশ নিষেধ বলেও উল্লেখ রয়েছে।
তবে আদালতের স্থিতাবস্থার কথা উল্লেখ করে নোটিশ ঝোলানো থাকলেও সেখানে নির্মাণকাজ চলতে দেখা গেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, পাশের বৈশাখী হোটেল/রেস্তোরাঁর মালিক কামরুলের তত্ত্বাবধানে একটি সিন্ডিকেট এসব নির্মাণকাজ পরিচালনা করছে। নির্মাণাধীন দোকান ও জায়গা বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে উচ্চ ‘সালামি’র বিনিময়ে বরাদ্দ দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে বলেও দাবি তাদের।
স্থানীয় বাসিন্দারা আরও জানান, এর আগেও একই এলাকায় আদালতের আদেশ উপেক্ষা করে বৈশাখী হোটেলসহ প্রায় ২০ থেকে ২৫টি দোকান নির্মাণ করা হয়েছে। এসব দোকানও উচ্চ ‘সালামি’র বিনিময়ে ভাড়া বা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্থানীয় ব্যবসায়ী বলেন, ‘সরকারি খাস জমি ও আদালতের রিটের বিষয়টি নোটিশে উল্লেখ করার পরও সেখানে পাকা স্থাপনা নির্মাণ করা হচ্ছে। প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে এখানে বড় ধরনের ভূমি বাণিজ্যের প্রস্তুতি চলছে।’
অভিযোগের বিষয়ে কামরুলের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন কেটে দেন। পরে বক্তব্য জানতে চাইলে সরাসরি দেখা করে কথা বলবেন বলে জানান।
এ বিষয়ে কক্সবাজার সদর উপজেলা ভূমি কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার (ভূমি) মশিয়ুর রহমান বলেন, ‘বাতিলকৃত সরকারি প্লট হলে আমরা দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করব। বিষয়টি জানতাম না। তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করছি। যতই প্রভাবশালী হোক, সরকারি জায়গা দখল করতে দেওয়া হবে না।’
কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক আ. মান্নান বলেন, ‘বিষয়টি অবগত ছিলাম না। তদন্ত করে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করছি।’
স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীরা সরকারি জমি দখল ও কথিত ভূমি বাণিজ্য বন্ধে দ্রুত প্রশাসনিক পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন।
এফপি/র