ফেনীতে সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে এলপিজি বিক্রির দায়ে এক ডিলারকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। একই অভিযানে নকল লাল চিনি বিক্রির অভিযোগে আরও একটি প্রতিষ্ঠানকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টা থেকে ফেনীর সালাউদ্দিন মোড়, বিসিক এলাকা ও বড় বাজারে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ফেনী জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. আছাদুল ইসলামের নেতৃত্বে অভিযানটি পরিচালিত হয়।
অভিযানে এলপিজি, ভোজ্যতেল ও নিত্যপণ্যের মূল্য এবং সরবরাহ পরিস্থিতি যাচাই করা হয়। এ সময় বিসিক এলাকার মেসার্স মক্কা ট্রেডিং কর্পোরেশন নামের বিএম গ্যাসের এক ডিলারকে নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে এলপিজি বিক্রির দায়ে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
অভিযানসংশ্লিষ্টরা জানান, বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) নির্ধারিত খুচরা মূল্যে ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৫৮৫ টাকা। তবে ওই ডিলার একই সিলিন্ডার পাইকারি পর্যায়ে ১ হাজার ৭৩০ টাকায় বিক্রি করছিলেন। তিনি সিলিন্ডারটি ১ হাজার ৫৬০ টাকায় কেনার কথা জানালেও এর পক্ষে কোনো ক্রয় ভাউচার দেখাতে পারেননি।
এ ছাড়া খুচরা বিক্রেতাদের বিক্রয় ভাউচারও দেওয়া হচ্ছিল না। এতে পণ্য কেনার প্রমাণ না থাকায় খুচরা বিক্রেতারা ইচ্ছামতো দামে এলপিজি বিক্রির সুযোগ পাচ্ছেন বলে জানান অভিযান পরিচালনাকারী কর্মকর্তারা।
এসব অনিয়মের দায়ে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর ৪০ ধারায় মেসার্স মক্কা ট্রেডিং কর্পোরেশনকে জরিমানা করা হয়। একই সঙ্গে সরকার নির্ধারিত মূল্যে এলপিজি বিক্রি এবং ক্রয়-বিক্রয়ের ক্ষেত্রে বাধ্যতামূলকভাবে ভাউচার সংরক্ষণের নির্দেশ দেওয়া হয়।
অভিযানে সালাউদ্দিন মোড় এলাকার মেসার্স সায়েম খাদ্য বিতানকে নকল লাল চিনি বিক্রির অভিযোগে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
অভিযানে দুই প্রতিষ্ঠানকে মোট ৫৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। পাশাপাশি অন্যান্য ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে সতর্ক করা এবং ভোক্তা সচেতনতা বাড়াতে লিফলেট বিতরণ করা হয়।
অভিযানে জেলা ব্যাটালিয়ন আনসারের একটি দল সহযোগিতা করে। জনস্বার্থে এ ধরনের তদারকি অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।