কিশোর অপরাধ প্রতিরোধে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের বিশেষ অভিযানে ৪৪৫ জনকে আটক করা হয়েছে। এর মধ্যে যাচাই-বাছাই শেষে অপরাধে সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ না পাওয়ায় ২৯৩ জন কিশোরকে অভিভাবকদের জিম্মায় মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যার পর থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত চট্টগ্রাম জেলার ১৭টি থানার আওতাধীন বিভিন্ন এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। পাড়া-মহল্লা, বাজার, রেলস্টেশন, মাঠ, পরিত্যক্ত ও নির্জন স্থানসহ কিশোরদের আড্ডার সম্ভাব্য জায়গাগুলোতে অভিযান চালায় পুলিশ।
পুলিশ জানায়, অভিযানে আড্ডারত ও সন্দেহজনক কর্মকাণ্ডে জড়িত কিশোরদের শনাক্ত করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে পরিচয় ও সংশ্লিষ্টতা যাচাই-বাছাই শেষে যাদের বিরুদ্ধে অপরাধের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি, তাদের অভিভাবকদের ডেকে মুচলেকার মাধ্যমে হস্তান্তর করা হয়।
এদিকে অপরাধে জড়িত থাকার প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় ৬১ জনের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এছাড়া মাদক ও অন্যান্য অপরাধের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে আরও ৯১ জনকে আটক করা হয়।
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ জানায়, কিশোর অপরাধ, মাদকাসক্তি ও অপরাধপ্রবণতা নিয়ন্ত্রণে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মাসুদ আলম বলেন, কিশোর অপরাধ প্রতিরোধে শুধু পুলিশের উদ্যোগ যথেষ্ট নয়। পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, সামাজিক ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানসহ সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
তিনি অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, সন্তানরা কখন কোথায় যাচ্ছে, কার সঙ্গে সময় কাটাচ্ছে, নির্ধারিত সময়ে বাড়ি ফিরছে কি না এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের বিষয়গুলোতে নিয়মিত নজর রাখতে হবে। পাশাপাশি সন্তানদের মাদক ও অপরাধপ্রবণ পরিবেশ থেকে দূরে রাখতে পরিবারকে আরও সচেতন হওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।
এফপি/অ