নিয়ম মেনে প্রয়োজনীয় অর্থ জমা দেওয়ার প্রায় এক বছর পেরিয়ে গেলেও বিদ্যুৎ সংযোগ পাননি চিলমারী পল্লীবিদ্যুৎ সমিতির আওতাভুক্ত চর হরিপুর এলাকার ১৪ পরিবার। মিটার এসে পৌঁছানোর পরও সংযোগ না দেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগীরা। তাঁদের অভিযোগ, সংযোগের বিষয়ে জানতে গেলে চিলমারী জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) তাঁদের কাছে ফাঁকা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর চেয়েছেন। তবে কেন ফাঁকা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়া হবে? তার সন্তোষজনক ব্যাখ্যা তাঁরা পাননি।
রাইস মিলে সংযোগ না দেওয়া, অন্য মিলে নিয়মবহির্ভূত সংযোগ দেওয়াসহ অনিয়ম, স্বেচ্ছাচারিতা ও গ্রাহক হয়রানির অভিযোগও তুলেছেন তাঁরা।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) এসব অভিযোগের প্রতিকার ও দ্রুত বিদ্যুৎ সংযোগের দাবিতে প্রেসক্লাব চিলমারীতে সংবাদ সম্মেলন করেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী। চর হরিপুর এলাকার বাসিন্দাদের উদ্যোগে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন স্থানীয় বাসিন্দা মো. ইউনুছ আলী।
লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, চর হরিপুর এলাকার ১৪টি পরিবার ডিপোজিট লাইনের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সংযোগ নিতে প্রায় এক বছর আগে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে। লাইন নির্মাণ বাবদ ৫৪ হাজার টাকা এবং মিটার জামানত বাবদ বাণিজ্যিক মিটারের জন্য ১১টি পরিবার ১১ হাজার ১১০ টাকা ও আবাসিক তিনটি মিটারের জন্য ১ হাজার ৫৯০ টাকা জমা দেয়। সব মিলিয়ে জমা দেওয়া হয় ৬৬ হাজার ৭০০ টাকা।
ভুক্তভোগীদের দাবি, প্রায় তিন মাস আগে তাঁদের নামে মিটার এসে পৌঁছালেও অজ্ঞাত কারণে সংযোগ দেওয়া হচ্ছে না। এ বিষয়ে তাঁরা বারবার চিলমারী জোনাল অফিসে যোগাযোগ করেন। পরে কুড়িগ্রাম পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) ও সহকারী জেনারেল ম্যানেজারের (এজিএম) কাছেও লিখিত অভিযোগ দেন। তাতেও সমস্যার সমাধান হয়নি।
সংবাদ সম্মেলনে ইউনুছ আলী অভিযোগ করেন, প্রায় তিন মাস আগে প্রাকৃতিক দুর্যোগে তাঁর রাইস মিলের সিঙ্গেল ফেজ মিটারটি নষ্ট হয়ে যায়। দীর্ঘদিন অফিসে ঘোরাঘুরির পর তাঁকে তিন ফেজ সংযোগের জন্য আবেদন করতে বলা হয়। এরপর প্রায় দেড় মাস আগে তিনি আবেদন করলেও এখনো সংযোগ পাননি। এতে তাঁর রাইস মিলের কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। অথচ একই এলাকায় অন্য একটি রাইস মিলে নিয়মবহির্ভূতভাবে সংযোগ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
ইউনুছ আলী বলেন, ‘নিয়ম মেনে টাকা জমা দেওয়ার পরও এক বছর ধরে বিদ্যুৎ পাচ্ছি না। মিটার এসে পড়ে থাকলেও কেন সংযোগ দেওয়া হচ্ছে না, তার স্পষ্ট জবাব চাই। আমরা তদন্ত সাপেক্ষে অভিযোগের সুষ্ঠ প্রতিকার এবং দ্রুত বিদ্যুৎ সংযোগের দাবি জানাচ্ছি।’
অভিযোগের বিষয়ে কুড়িগ্রাম-লালমনিরহাট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির চিলমারী জোনাল অফিসের ডিজিএম মো. ফকরুদ্দীন বলেন, ‘ওই এলাকায় সংযোগকে ঘিরে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে। আমরা বিষয়টি তদন্ত করে দেখছি। এ কারণে সংযোগ দিতে কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে।’
রাইস মিলের সংযোগের বিষয়ে ডিজিএম বলেন, ‘অতিরিক্ত লোডের কারণে ওই রাইচ মিলের মিটার বারবার ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এ কারণে মিল মালিককে তিন ফেজ সংযোগের জন্য আবেদন করতে বলা হয়েছিল। তিনি আবেদন করেছেন। বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।’
কুড়িগ্রাম-লালমনিরহাট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার মো. শামিম পারভেজ বলেন, ‘কেন সংযোগ দেওয়া হচ্ছে না? বিষয়টি কথা বলে দেখছি।’
সংবাদ সম্মেলনে মো. কামরুজ্জামান, মো. সাইফুল ইসলাম, মো. রেজাউল ইসলাম ও মো. ইদ্রিস আলীসহ ভুক্তভোগী এলাকার বাসিন্দারা উপস্থিত ছিলেন।
এফপি/স