আকাশে মুক্তভাবে উড়ে বেড়ানোর কথা যাদের, সেই বক, পানখাওরি ও কুরাসহ নানা প্রজাতির বন্য পাখিই এখন উঠছে বাজারে বিক্রির পসরা হয়ে। নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলার বিভিন্ন বিল ও জলাশয় থেকে এসব পাখি শিকার করে সাওতা বাজারে প্রকাশ্যে বিক্রি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, উপজেলার গোপালপুর গ্রামের মরহুম মৌজালির ছেলে আবুল কাশেম দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় বিল ও জলাশয় থেকে বক, পানখাওরি, কুরাসহ বিভিন্ন প্রজাতির পাখি শিকার করে আসছেন। পরে শিকার করা এসব পাখি সাওতা বাজারে নিয়ে বিক্রি করা হয়।
সম্প্রতি সরেজমিন সাওতা বাজার ঘুরে দেখা গেছে গোপালপুর গ্রামের আবুল কাশেম সাঁওতা বাজারে বকসহ কয়েকটি পাখি বিক্রির দৃশ্য দেখা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আশপাশের বিল ও জলাশয় থেকে শিকার করে এসব পাখি বাজারে আনা হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বারহাট্টার বিভিন্ন বিল, ঝিল ও জলাশয়ে বিভিন্ন মৌসুমে দেশীয় ও পরিযায়ী পাখির বিচরণ দেখা যায়। এসব পাখি প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কিন্তু নিয়মিত পাখি শিকারের কারণে জীববৈচিত্র্য ও পাখির নিরাপদ আবাসস্থল হুমকির মুখে পড়ছে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
বন্য পাখি শিকার ও বিক্রি নিষিদ্ধ—এটি জানা সত্ত্বেও প্রকাশ্যে পাখি বিক্রি করছেন কেন, জানতে চাইলে আবুল কাশেম বলেন, প্রতিটি বক পাখি ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি করা যায়। এভাবে পাখি বিক্রি করে লাভবান হওয়া যায় বলেও তিনি জানান।
আইনে নিষেধাজ্ঞা
বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন, ২০২৬ অনুযায়ী, লাইসেন্স, পজেশন সার্টিফিকেট বা পারমিট ছাড়া বন্যপ্রাণী লালন-পালন, আবদ্ধ রাখা, দখলে রাখা, ক্রয়-বিক্রয় বা পরিবহন নিষিদ্ধ। হাট-বাজারসহ বিভিন্ন মাধ্যমে বন্যপ্রাণী ক্রয়-বিক্রয়ের ক্ষেত্রেও আইনে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।
আইনের আওতাভুক্ত বন্যপ্রাণী শিকার, দখলে রাখা, ক্রয়-বিক্রয় বা পরিবহনের জন্য অপরাধের ধরন অনুযায়ী শাস্তির বিধান রয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, প্রকাশ্যে বন্য পাখি শিকার ও বিক্রি বন্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিয়মিত নজরদারি এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। একই সঙ্গে পাখি শিকার থেকে বিরত রাখতে স্থানীয় পর্যায়ে সচেতনতা বাড়ানোরও আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
এফপি/অ