গবেষণা, উদ্ভাবন ও টেকসই উন্নয়নকে গুরুত্ব দিয়ে গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (গোবিপ্রবি) অনুষ্ঠিত দুই দিনব্যাপী ‘ইন্টারডিসিপ্লিনারি সামিট’ সম্মেলন শেষ হয়েছে। ‘বৈশ্বিক প্রভাবের জন্য চিন্তার মিলন’ প্রতিপাদ্যে প্রথমবারের মতো এ সম্মেলনের আয়োজন করে জিএসটিইউ গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স কাউন্সিল।
শনিবার (২৯ আগস্ট) বিকেলে সম্মেলনের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন গোবিপ্রবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. সোহেল হাসান।
শুক্রবার শুরু হওয়া সম্মেলনে দেশের ৪০টি বিশ্ববিদ্যালয়ের শতাধিক শিক্ষক ও শিক্ষার্থী অংশ নেন। সাতটি ডিসিপ্লিনে জমা পড়া ১৩৬টি গবেষণাপত্র যাচাই-বাছাই শেষে ৬৬টি গবেষণাপত্র সম্মেলনে উপস্থাপন করা হয়।
তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ও শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে এ সম্মেলন বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অর্জন। এর মাধ্যমে বৃহৎ পরিসরে গবেষকদের পারস্পরিক মতবিনিময়ের সুযোগ তৈরি হয়েছে।
উপাচার্য বলেন, দেশের অগ্রগতির জন্য গবেষণার কোনো বিকল্প নেই। আজকের তরুণ গবেষকদের কাজ ভবিষ্যতে দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে ভূমিকা রাখবে। বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণার সুযোগ বাড়াতে ল্যাবরেটরি সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, যাতে শিক্ষার্থীরা আরও ভালোভাবে গবেষণায় যুক্ত হতে পারেন।
সমাপনী অনুষ্ঠানে সাতটি ডিসিপ্লিনের সেরা গবেষকদের হাতে ক্রেস্ট ও সনদ তুলে দেন উপাচার্য।
সম্মেলনে প্রকৌশল, জীবনবিজ্ঞান, কৃষি, ব্যবসায় শিক্ষা, মানবিক ও সমাজবিজ্ঞানসহ সাতটি পৃথক সেশনে গবেষক, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা তাঁদের গবেষণা ও বিভিন্ন সমস্যার সম্ভাব্য সমাধান তুলে ধরেন। এসব সেশন পরিচালনা করেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এবং গোবিপ্রবির গবেষকেরা।
সম্মেলন আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক ও ফিশারিজ অ্যান্ড মেরিন বায়োসায়েন্স বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. নিয়াজ আল হাসান বলেন, বিভিন্ন শাখার জ্ঞান ও দৃষ্টিভঙ্গিকে একত্র করে সমসাময়িক সংকটের বাস্তবভিত্তিক সমাধান খুঁজে বের করাই সম্মেলনের মূল উদ্দেশ্য।
তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন, জনস্বাস্থ্য, খাদ্যনিরাপত্তা, টেকসই প্রযুক্তি, অর্থনৈতিক উন্নয়ন, নৈতিকতা ও সামাজিক স্থিতিশীলতার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে গবেষকদের মধ্যে মতবিনিময়ের সুযোগ তৈরি হয়েছে এ সম্মেলনে।
আয়োজকদের মতে, আন্তঃবিষয়ক গবেষণার মাধ্যমে বিভিন্ন ক্ষেত্রের জ্ঞানকে সমন্বিত করে জাতীয় ও বৈশ্বিক সমস্যার কার্যকর সমাধান বের করার ক্ষেত্রে এ ধরনের সম্মেলন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
এফপি/ফ