নেপালের ভয়াবহ বন্যার তিন দিন পরও জলবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলোর সুড়ঙ্গ ও ভূগর্ভস্থ বিদ্যুৎকেন্দ্রে আটকে থাকা শত শত কর্মীকে নিয়ে উদ্বেগ কাটেনি। বন্যার পানিতে সড়ক ও সেতু ভেসে যাওয়ায় দুর্গত এলাকাগুলোতে পৌঁছাতেই হিমশিম খাচ্ছেন উদ্ধারকারীরা। কোথাও আবার সুড়ঙ্গের প্রবেশপথ কাদা ও ধ্বংসাবশেষে পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে।
নেপালের ইনডিপেনডেন্ট পাওয়ার প্রডিউসার এসোসিয়েশন জানিয়েছে, নির্মাণাধীনসহ ১১টি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত ৯৩৪ জনের এখনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। তবে কোন প্রকল্পে ঠিক কতজন আটকা আছেন, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
উচ্চ ত্রিশূলি ১ জলবিদ্যুৎ প্রকল্প থেকে ২৫৪ জন এবং ২০ মেগাওয়াটের লাংটাং খোলা জলবিদ্যুৎ প্রকল্প থেকে ১৮ জনকে উদ্ধার করেছে নেপালি সেনাবাহিনী। তবে রাসুওয়াগাধি ও চিলিমেসহ কয়েকটি প্রকল্পে এখনো বহু কর্মীর সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
২২ দশমিক ১ মেগাওয়াটের চিলিমে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে আটজনের খোঁজ নেই। তাদের মধ্যে ছয়জন সুড়ঙ্গের ভেতরে থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রকল্পটির নির্বাহী পরিচালক বাবুরাজ মহারাজন বলেন, সুড়ঙ্গ কাদায় ভরে যাওয়ায় সেখানে প্রবেশ করা সম্ভব হচ্ছে না। উদ্ধারকাজে রক ক্লাইম্বিং বিশেষজ্ঞ দল পাঠানোর চেষ্টা চলছে।
রাসুওয়াগাধি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের ৪৯ কর্মীরও কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। প্রকল্পটির তথ্য কর্মকর্তা নারায়ণ নাথ নিউপানে জানান, ভূগর্ভস্থ বিদ্যুৎকেন্দ্রে তিন থেকে ছয়জন আটকে থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। অক্সিজেন সরবরাহের পাইপ বন্ধ না হয়ে থাকলে তারা নিরাপদে থাকতে পারেন বলে আশা করা হচ্ছে।
বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বিভিন্ন প্রকল্প থেকে শুক্রবার পর্যন্ত ৩৫০ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। পাশাপাশি শতাধিক মানুষ এখনো সুড়ঙ্গের ভেতরে আটকা থাকতে পারেন বলে তাদের কাছে তথ্য রয়েছে।
উচ্চ ত্রিশুলি ৩এ প্রকল্পের সুড়ঙ্গেও বহু মানুষ আটকা থাকার আশঙ্কা করা হচ্ছে। সুড়ঙ্গের প্রবেশপথ কাদায় চাপা পড়ায় সেনাবাহিনী ও কারিগরি দল খননযন্ত্র ব্যবহার করে সেটি পরিষ্কারের কাজ করছে।
এদিকে বন্যায় ত্রিশুলি করিডরের ১৪ থেকে ১৫টি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের প্রায় ৪৩০ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতা বন্ধ হয়ে গেছে। তবে নেপাল বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এতে দেশটির বিদ্যুৎ সরবরাহে তাৎক্ষণিক কোনো সংকট তৈরি হয়নি।
নেপালি সেনাবাহিনীর ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মনোজ থাপা জানিয়েছেন, ১৯টি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গে তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযানকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
এফপি/ফ