ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার আজিমনগর ইউনিয়নের পাতরাইল দিঘির পাড় মজনু মার্কেট এলাকায় মসজিদের জায়গা দখল করে দোকানঘর নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মিজানুর রহমান ভুলু ভাঙ্গা থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন। অভিযোগের পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নির্মাণকাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দিলেও তা উপেক্ষা করে কাজ চালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, আজিমনগর ইউনিয়নের থানমাত্তা গ্রামের ব্যবসায়ী মিজানুর রহমান ভুলু মাতৃসূত্রে পাওয়া জমিটি দীর্ঘদিন ধরে ভোগদখল করে আসছিলেন। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় নিজস্ব অর্থায়নে ওই জমিতে একটি মসজিদ নির্মাণ করেন। মসজিদ নির্মাণের পর থেকে সেখানে নিয়মিত নামাজ আদায় করে আসছেন স্থানীয় মুসল্লিরা।
অভিযোগ রয়েছে, মিজানুর রহমান ভুলু প্রবাসে থাকা অবস্থায় পাতরাইল দিঘির পাড় গ্রামের শাহাদাত মুন্সী মসজিদের সামনের অংশে একটি এবং পাশে আরও দুটি দোকানঘর নির্মাণ শুরু করেন। একপর্যায়ে মসজিদের দোতলার কিছু অংশ ভেঙে দোকানঘর সম্প্রসারণেরও চেষ্টা করা হয়।
স্থানীয়দের দাবি, শাহাদাত মুন্সী মুসল্লিদের জানিয়েছেন, দোকান থেকে পাওয়া ভাড়ার একটি বড় অংশ মসজিদ ফান্ডে দেওয়া হবে। বিষয়টি জানতে পেরে মিজানুর রহমান ভুলু দোকান নির্মাণে বাধা দিলে শাহাদাত মুন্সী ওই জমি নিজের বলে দাবি করেন। এ সময় তাকে হেনস্তা ও হামলার চেষ্টা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন ভুলু।
পরে মিজানুর রহমান ভুলু ভাঙ্গা থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগ পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নির্মাণকাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়। তবে এরপরও মসজিদের ছাদের কিছু অংশ ভেঙে দোকানঘর দোতলা পর্যন্ত সম্প্রসারণের কাজ চলছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।
সরেজমিনে দেখা যায়, মসজিদের সামনের একটি বড় অংশ দখল করে দোকানঘর নির্মাণ করা হয়েছে। পাশাপাশি নির্মাণকাজও চলমান রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা আঃ ছালাম ব্যাপারী বলেন, মসজিদটি মিজানুর রহমান ভুলু নির্মাণ করেছেন। জায়গাটিও তার বলে তারা জানতেন। এখন হঠাৎ শাহাদাত মুন্সী সেখানে দোকান নির্মাণ করছেন।
একই ধরনের বক্তব্য দেন স্থানীয় আফজাল মুন্সী, রফিকুল মাতুব্বরসহ কয়েকজন।
ভুক্তভোগী মিজানুর রহমান ভুলু বলেন, তিনি দীর্ঘদিন প্রবাসে থাকলেও মসজিদ নির্মাণে উল্লেখযোগ্য অর্থ দিয়েছেন। তার অনুপস্থিতির সুযোগ নিয়ে মসজিদের জায়গা দখল করে দোকান নির্মাণ করা হচ্ছে। প্রতিকার চেয়ে তিনি থানায় অভিযোগ করেছেন।
অভিযোগের বিষয়ে শাহাদাত মুন্সীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
ভাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, ‘অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এফপি/ফ