সাভারে ছাত্রদল নেতা মনোয়ারুল ইসলাম বকশীর মৃত্যুর ঘটনায় মামলার এজাহারে নাম না থাকা সত্ত্বেও পীরগাছার কৈকুড়ী ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর আলমের ছবি ব্যবহার করে পোস্টার সাঁটানোর প্রতিবাদে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রোববার (১৬ আগস্ট) সন্ধ্যায় উপজেলার চৌধুরানী বাজার চারমাথায় কৈকুড়ী ইউনিয়ন বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের উদ্যোগে এ কর্মসূচি পালিত হয়। সমাবেশ থেকে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে চালানো অপপ্রচারের নিন্দা জানানো হয়।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন কৈকুড়ী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হারুন অর রশিদ বাবলু, সাধারণ সম্পাদক মুনছুর আলী মেম্বার, সাংগঠনিক সম্পাদক ও প্যানেল চেয়ারম্যান আক্কাস আলী বাদল এবং ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর আলমসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ছাত্রদল নেতা মনোয়ারুল ইসলাম বকশীর মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের করা মামলার এজাহারে তার নাম নেই। তিনি ওই ঘটনার সঙ্গে কোনোভাবেই জড়িত নন। এরপরও তার ছবি ব্যবহার করে ফাঁসির দাবিতে পোস্টার ছাপিয়ে এলাকায় অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।
তিনি দাবি করেন, আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার প্রস্তুতি নেওয়ায় রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ পরিকল্পিতভাবে তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। এ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার এবং প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি করেন তিনি।
মামলার বাদী ও নিহতের স্বজন মমদেল হোসেন বকশী বলেন, কারা এসব পোস্টার লাগিয়েছে, তা তাদের জানা নেই। তবে তদন্তে কেউ জড়িত প্রমাণিত হলে তাদের আইনের আওতায় আনা হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে তিনি তার ভাইয়ের মৃত্যুর ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেন।
ঘটনার পটভূমি
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ৫ আগস্ট রাতে সাভারের বাংলাদেশ লোকপ্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের (বিপিএটিসি) একটি ফ্ল্যাটে পুলিশের অভিযানের সময় ছাত্রদল নেতা মনোয়ারুল ইসলাম বকশী গুরুতর আহত হন। পরে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, পুলিশের অভিযানের সময় মনোয়ারুলকে ছাদ থেকে ফেলে হত্যা করা হয়েছে। তবে পুলিশের ভাষ্য, অভিযান চলাকালে ছাদ থেকে কিছু একটা পড়ে যাওয়ার শব্দ শুনে ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় পাওয়া যায়।
ঘটনার পর পুলিশের সম্পৃক্ততার অভিযোগ তুলে গত ৮ আগস্ট নিহতের স্বজন, এলাকাবাসী ও রাজনৈতিক সহকর্মীরা পীরগাছা থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেন। পরে পীরগাছা থানার চার পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করে রংপুর পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়। এ ঘটনায় ঢাকা ও রংপুরে পৃথক দুটি তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়েছে।
সাভার মডেল থানার ওসি সাইফুল আলম জানান, ছাত্রদল নেতা মনোয়ারুল ইসলাম বকশীর মৃত্যুর ঘটনায় দুজনকে নামীয় এবং অজ্ঞাতনামা আরও চার থেকে পাঁচজনকে আসামি করে হত্যা মামলা হয়েছে। মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে এবং আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন এখনো পাওয়া যায়নি বলেও জানান তিনি।
এফপি/ফ