খুলনায় ডেঙ্গুতে আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় লিয়াকত (৫৩) নামে এক রোগীর মৃত্যু হয়। তিনি নগরীর গগনবাবু রোডের বাসিন্দা।
এ নিয়ে চলতি বছর খুলনা বিভাগে ডেঙ্গুতে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে ১৩ জনে দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ১৫৩ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। বর্তমানে বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ৪৪৮ জন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর খুলনা বিভাগের পরিচালক মো. মোশাররফ হোসেন স্বাক্ষরিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন ভর্তি হওয়া ১৫৩ রোগীর মধ্যে সরকারি হাসপাতালে ১২০ জন এবং বেসরকারি হাসপাতালে ৩৩ জন ভর্তি হয়েছেন। এ সময়ে খুলনার সরকারি হাসপাতালে ৩১ জন, বেসরকারি হাসপাতালে ৩৩ জন, খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৩৬ জন, বাগেরহাটে ১৫ জন, সাতক্ষীরায় ১ জন, যশোরে ২০ জন, নড়াইলে ৪ জন, কুষ্টিয়ায় ৮ জন, চুয়াডাঙ্গায় ৪ জন ও মেহেরপুরে ১ জন ভর্তি হয়েছেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ১৫ আগস্ট পর্যন্ত খুলনা বিভাগে মোট ৩ হাজার ৫৫৫ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে চিকিৎসা শেষে ৩ হাজার ৫৬ জন ছাড়পত্র নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন। উন্নত চিকিৎসার জন্য ৩৮ জনকে অন্য হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে।
চলতি বছর ডেঙ্গুতে মারা যাওয়া ১৩ জনের মধ্যে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১০ জন, খুলনা জেলায় দুজন এবং বাগেরহাটে একজন মারা গেছেন। খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যাওয়া ১০ জনের মধ্যে চারজন খুলনা জেলার বাসিন্দা।
বর্তমানে বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগীদের মধ্যে খুলনায় ১৭২ জন, খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১২৭ জন, বাগেরহাটে ৬৮ জন, সাতক্ষীরায় ৫ জন, সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ২ জন, যশোরে ৩৫ জন, ঝিনাইদহে ৫ জন, মাগুরায় ৭ জন, নড়াইলে ৮ জন, কুষ্টিয়ায় ১৩ জন, চুয়াডাঙ্গায় ৪ জন ও মেহেরপুরে ২ জন রয়েছেন।
এদিকে, চুয়াডাঙ্গায় এ মৌসুমে গত ১৩ আগস্ট প্রথম ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হওয়ার পর ১৭ আগস্ট পর্যন্ত আরও চারজন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. আখতারুজ্জামান বলেন, মৃত লিয়াকত ১৬ আগস্ট হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। তিনি ডেঙ্গুর পাশাপাশি কিডনি জটিলতা ও অন্যান্য শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন।
তিনি বলেন, রোগীর সংখ্যা বেশি হলেও চিকিৎসায় কোনো ঘাটতি হচ্ছে না। হাসপাতালে ওষুধ ও ডেঙ্গু পরীক্ষার কিট পর্যাপ্ত রয়েছে। রোগীর চাপ আরও বাড়লে পৃথক ইউনিট চালুর পরিকল্পনা নেওয়া হতে পারে।
এফপি/ফ