জলবায়ু উষ্ণতা রোধ ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় বেশি বেশি গাছ লাগানোর আহ্বান জানিয়েছেন পরিবেশকর্মীরা। তারা বলেছেন, গাছ অক্সিজেন সরবরাহ ও কার্বন ডাই-অক্সাইড শোষণের মাধ্যমে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার পাশাপাশি উপকূলীয় অঞ্চলকে প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষতি থেকে সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
সোমবার (১৭ আগস্ট) সকালে মোংলা মহিলা দাখিল মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধনকালে বক্তারা এসব কথা বলেন। মোংলা নাগরিক সমাজ, আশা—বাংলাদেশের মানুষের জন্য আশা এবং পশুর রিভার ওয়াটারকিপারের উদ্যোগে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মোংলা মহিলা দাখিল মাদ্রাসার সুপার মাওলানা মো. আলী হোসেন। প্রধান অতিথি ছিলেন মোংলা নাগরিক সমাজের সভাপতি ও পশুর রিভার ওয়াটারকিপার মো. নূর আলম শেখ। বিশেষ অতিথি ছিলেন মাওলানা আব্দুর রহমান।
এ ছাড়া বক্তব্য দেন মোংলা নাগরিক সমাজের নাজমুল হক, পশুর রিভার ওয়াটারকিপারের সংগঠক জানে আলম বাবু, ধরা’র সংগঠক ও পরিবেশকর্মী মেহেদী হাসানসহ অন্যরা।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মো. নূর আলম শেখ বলেন, সুন্দরবন উপকূলে ম্যানগ্রোভ বৃক্ষরোপণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ম্যানগ্রোভ বন উপকূলীয় এলাকার প্রাকৃতিক সুরক্ষাবলয় হিসেবে কাজ করে। ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস ও নদীভাঙনের ঝুঁকি কমানোর পাশাপাশি জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, কার্বন শোষণ ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় ম্যানগ্রোভ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
নাজমুল হক বলেন, ভারসাম্যপূর্ণ প্রাকৃতিক পরিবেশ বজায় রাখতে বৃক্ষরোপণের কোনো বিকল্প নেই। পরিবেশ রক্ষায় বেশি করে গাছ লাগানোর পাশাপাশি সেগুলোর পরিচর্যা ও সংরক্ষণ নিশ্চিত করতে হবে।
বিশেষ অতিথি মাওলানা আব্দুর রহমান বলেন, শুধু গাছ লাগালেই হবে না, নিয়মিত পরিচর্যার মাধ্যমে গাছগুলোকে বাঁচিয়ে রাখতে হবে। সুন্দরবন আল্লাহর দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ নিয়ামত। তাই সুন্দরবন ও এর জীববৈচিত্র্য রক্ষায় সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
বক্তারা বলেন, গাছ পরিবেশের প্রাকৃতিক ‘এয়ার কন্ডিশনার’ হিসেবে কাজ করে। গাছপালা বায়ুমণ্ডল থেকে কার্বন ডাই-অক্সাইড শোষণ ও অক্সিজেন সরবরাহের মাধ্যমে পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখতে সহায়তা করে।
আয়োজকরা জানান, চলতি বর্ষা মৌসুমে মোংলা উপজেলায় পাঁচ শতাধিক ম্যানগ্রোভ ও ফলদ বৃক্ষ রোপণের কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে।
এফপি/ফ