খুলনা নগরীর দৌলতপুরের ১৪ বছরের কিশোরীকে গণ ধর্ষণের অভিযোগে দু’জনকে যাবজ্জীবন কারাদন্ড দিয়েছেন আদালত। একই সাথে তাদের দু'জনকে দুই লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছরের বিনাশ্রম কারাদন্ড দেওয়া হয়।
বৃহস্পতিবার বিকেলে খুলনার শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনাল খুলনা মহানগর, খুলনার বিচারক মুহাম্মদ আকরাম হোসেন এ রায় ঘোষণা করেন।
রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ওই আদালতের বেঞ্চ সহকারী ইকবাল মাহমুদ।
দন্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন, দৌলতপুর থানার কুলিবাগান রেল কলোনী বস্তি রশিদের বাড়ির ভাড়াটিয়া মো: সুলতানের ছেলে হিরু ও একই বস্তির বাসিন্দা ফরমান খাঁ’র ছেলে নজু খাঁ।
রায় ঘোষণার পর তাদের আদালত থেকে কারাগারে প্রেরণ করা হয়।
আদালতের সূত্র জানায়, ভিকটিম স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী ছিল। বিদ্যালয় থেকে ফিরে গত ২০১৩ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি দুপুর আড়াইটার দিকে দৌলতপুর কুলিরবাগান রেল কলোনী বস্তির বাসায় বসে হাত ও পায়ের নখ কাটছিল কিশোরী।
হঠাৎ তার পা কেটে যায়। এ সময়ে ঔষুধ আনতে আসামি নজু খাঁ’র বাসায় যায়। ঘটনাস্থলে হিরু উপস্থিত ছিল। আসামি নজু খাঁ বলে আমার ঘরে কোনো ঔষুধ নেই। বের হয়ে আসার সময় হাত টান দিয়ে ঘরের মধ্যে নিয়ে গিয়ে ওই দু’জন পালাক্রমে ধর্ষণ করে।
সূত্রটি আরও জানায়, কিশোরীর মা স্থানীয় একটি জুট মিলের শ্রমিক। ঘটনার সময় তিনি বাড়িতে ছিলেন না। খবর পেয়ে বাড়িতে ফিরে মেয়েকে নিয়ে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যায়।
ঘটনার চারদিন পর কিশোরীর মা বাদী হয়ে দৌলতপুর থানায় নজু খাঁ ও হিরুর নাম উল্লেখ করে মামলা দায়ের করেন, যার নং ৫।
একই বছরের ৩০ জুন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট থানার এসআই শফিকুল ইসলাম উল্লিখিত দুইজনকে আসামি করে আদালতে একটি অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
২০১৪ সালের ২১ জানুয়ারি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে তাদের দুইজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র গঠন করা হয়। শিশু সহিংসত দমন ট্রাইব্যুনাল সৃষ্টির পর ৯ কার্য দিবস শেষে এ মামলাটি নিস্পোত্তি করা হয়।
এফপি/ফ