চট্টগ্রামে ৯ বছরের শিশু আয়নীকে ধর্ষণচেষ্টার পর হত্যা ও মরদেহ গুমের মামলার আসামি মো. রুবেলকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
সোমবার (২০ জুলাই) চট্টগ্রামের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২-এর বিচারক মোহাম্মদ সাইফুর রহমান এ রায় ঘোষণা করেন। রায়ের সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মাহমুদ-উল আলম চৌধুরী মারুফ বলেন, মামলায় ২৪ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য-প্রমাণে আসামির বিরুদ্ধে অপহরণ, ধর্ষণচেষ্টা, হত্যা ও লাশ গুমের অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। এ কারণে আদালত দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় তাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন। পাশাপাশি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের এক ধারায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং আরেক ধারায় ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড, ৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ডও দেওয়া হয়েছে।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ২১ মার্চ নগরের পাহাড়তলী এলাকার চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী আয়নী নিখোঁজ হয়। পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হলেও তার কোনো সন্ধান মেলেনি। তদন্তে স্থানীয় সবজি বিক্রেতা রুবেলের সংশ্লিষ্টতার তথ্য পেয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নিখোঁজের নয় দিন পর পাহাড়তলীর মুরগি ফার্ম এলাকার একটি ডোবা থেকে আয়নীর গলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনাস্থল থেকে শিশুটির পোশাক ও স্যান্ডেলও উদ্ধার করা হয়।
তদন্তে উঠে আসে, পূর্বপরিচয়ের সুযোগ নিয়ে বিড়ালছানা দেওয়ার কথা বলে রুবেল আয়নীকে তার ফুফুর খালি বাসায় নিয়ে যান। সেখানে ধর্ষণের চেষ্টায় ব্যর্থ হলে শ্বাসরোধে হত্যা করেন। পরে মরদেহ বস্তায় ভরে নিজের সবজিবাহী ভ্যানে করে ডোবায় ফেলে দেন, যাতে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়া যায়।
মামলার তদন্ত চলাকালে রুবেল ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় দেওয়া জবানবন্দিতে হত্যাকাণ্ডে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেন বলে মামলার নথিতে উল্লেখ রয়েছে।
লাশ উদ্ধারের পর আয়নীর মা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে নালিশি মামলা করেন। আদালতের নির্দেশে অভিযোগটি এফআইআর হিসেবে গ্রহণ করে তদন্ত শেষে পুলিশ রুবেলের বিরুদ্ধে অপহরণ, ধর্ষণ, হত্যা ও লাশ গুমের অভিযোগে অভিযোগপত্র দাখিল করে। তবে বিচার চলাকালে সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা করে আদালত ধর্ষণের অভিযোগের পরিবর্তে অপহরণ, ধর্ষণচেষ্টা, হত্যা ও লাশ গুমের অভিযোগে বিচার সম্পন্ন করেন।
এফপি/ফ