স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থীদের জামানত বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা ও প্রত্যাহারের দাবিতে ঢাকায় মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় রাজধানীর আগারগাঁওয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কার্যালয়ের সামনে বাংলাদেশ ভূমিহীন আন্দোলনের উদ্যোগে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। পরে প্রধান নির্বাচন কমিশনার বরাবর একটি স্মারকলিপি দেওয়া হয়।
মানববন্ধনে সভাপতির বক্তব্যে বাংলাদেশ ভূমিহীন আন্দোলন কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক শেখ নাসির উদ্দিন বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন জনগণের অংশগ্রহণ ও তৃণমূল পর্যায়ে জনপ্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে ভূমিহীন, দরিদ্র, শ্রমজীবী ও নিম্নআয়ের জনগোষ্ঠীর মধ্য থেকেও যোগ্য ও জনপ্রিয় ব্যক্তিরা নির্বাচনে প্রার্থী হয়ে জনগণের সেবা করার সুযোগ পান।
তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থীদের জামানতের পরিমাণ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত সাধারণ মানুষ ও স্বল্পআয়ের সম্ভাব্য প্রার্থীদের জন্য বড় ধরনের আর্থিক প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করবে। এতে অর্থনৈতিকভাবে অসচ্ছল অনেক যোগ্য ও জনপ্রিয় ব্যক্তি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হতে পারেন।
শেখ নাসির উদ্দিন বলেন, নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার সুযোগ কেবল আর্থিকভাবে সচ্ছল ব্যক্তিদের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা উচিত নয়। ভূমিহীন, কৃষক, শ্রমিক, নিম্নআয়ের মানুষ ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর রাজনৈতিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা গণতন্ত্রের মৌলিক চেতনার অংশ।
যেসব দাবি জানানো হয়েছেমানববন্ধন ও স্মারকলিপিতে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থীদের জামানত বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করে তা প্রত্যাহার অথবা পূর্বের যৌক্তিক পর্যায়ে পুনর্নির্ধারণের দাবি জানানো হয়।
সংগঠনটির প্রস্তাব অনুযায়ী—
* উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও পৌরসভার মেয়রের জামানত ১০ হাজার টাকা করতে হবে।
* উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যানের জামানত ৫ হাজার টাকা নির্ধারণ করতে হবে।
* ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের জামানত ৩ হাজার টাকা করতে হবে।
* ইউনিয়ন পরিষদ সদস্যের জামানত ১ হাজার টাকা নির্ধারণ করতে হবে।
এ ছাড়া অর্থনৈতিক সামর্থ্য যেন সাধারণ ও প্রান্তিক জনগণের নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি না করে, তা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।
ভূমিহীন, কৃষক, শ্রমিক, দরিদ্র ও নিম্নআয়ের জনগোষ্ঠীর যোগ্য ব্যক্তিদের নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ সহজ করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানায় বাংলাদেশ ভূমিহীন আন্দোলন।
একই সঙ্গে স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ, অংশগ্রহণমূলক ও জনবান্ধব করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া এবং সাধারণ জনগণের নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ সংকুচিত করে—এমন কোনো সিদ্ধান্ত না নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
সংগঠনটি ‘আগে পুনর্বাসন, খাস জমির অধিকার, ভূমিহীন জনতার পরে উন্নয়ন’ দাবির আলোকে ভূমিহীন ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর রাজনৈতিক ও সামাজিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করারও দাবি জানায়।
শেখ নাসির উদ্দিন আরও বলেন, নির্বাচন কমিশন একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে জনগণের ভোটাধিকার ও নির্বাচনে অংশগ্রহণের অধিকার নিশ্চিত করতে সচেষ্ট থাকবে বলে তারা বিশ্বাস করেন। সাধারণ মানুষের স্বার্থ ও গণতান্ত্রিক অংশগ্রহণের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে জামানত বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার জন্য নির্বাচন কমিশন ও সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান তিনি।
মানববন্ধনে আরও বক্তব্য দেন জাস্টিস অ্যান্ড ডেমোক্রেসি পার্টির (জেডিপি) যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. আবদুল হামিদ, গণ সংস্কৃতি সংস্থার প্রধান সমন্বয়ক আবুল কালাম আজাদ, বাংলাদেশ ভূমিহীন আন্দোলনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছামিউল আলম রাসু, রাষ্ট্র অধ্যয়ন কেন্দ্রের বাবর চৌধুরী, বাংলাদেশ ভূমিহীন আন্দোলনের তথ্য ও প্রচার সম্পাদক আসাদুজ্জামান বিকাশ, ভূমিহীন আন্দোলন ঢাকা জেলার সভাপতি লিটন কবিরাজ এবং রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের নির্বাহী সদস্য আবুল হোসেন অমি।
এ ছাড়া শাহীন মন্ডল, সিমন রাব্বি, শামীম আহমেদ, পারভেজ হাসান সুমন, শান্তনু রাজু, চাষী মামুনসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
এফপি/র