প্রকাশ: শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:২২ পিএম (ভিজিটর : ৫২)
সংগৃহীত ছবি
বিমানবন্দরে স্বজনদের অপেক্ষার অবসান হলো সকাল ৬টা ৫৭ মিনিটে। তবে প্রিয় মানুষটির দেখা মিলল কফিনের ভেতর। স্পেনের মাদ্রিদে অগ্নিকাণ্ডে নিহত ইউসুফ হাসান আলিফের মরদেহ নিয়ে বিমানটি ঢাকায় পৌঁছালে কান্নায় ভেঙে পড়েন স্বজনরা।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে আলিফের কফিন গাজীপুরের কালীগঞ্জ পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তরগাঁও গ্রামের বাড়িতে পৌঁছায়। বাদ জুমা উত্তরগাঁও উত্তরপাড়া জামে মসজিদে জানাজা শেষে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। আলিফের বয়স হয়েছিল ২৫ বছর।
গাজীপুরের কালীগঞ্জের উত্তরগাঁও এলাকার আব্দুল মোতালিব ও রহিমা খাতুন দম্পতির ছেলে ইউসুফ হাসান আলিফ। পরিবারের ভাগ্য বদলের স্বপ্ন নিয়ে মাত্র দুই মাস আগে স্পেনে যান তিনি। মাদ্রিদে ফুড ডেলিভারি রাইডার হিসেবে কাজ শুরু করেছিলেন। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেওয়ার পর মৃত্যুর দুই দিন আগে কাজের অনুমতিও পান তিনি।
গত ৩০ আগস্ট স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টা ৩৭ মিনিটে মাদ্রিদের আরগানসুয়েলা এলাকার পালোস দে লা ফ্রন্তেরা এলাকার কাইয়ে কানারিয়াস সড়কের একটি সাইকেল গ্যারেজে আগুন লাগে। গ্যারেজের ভেতরে আটকা পড়েন আলিফ। আগুনের সঙ্গে ছড়িয়ে পড়া বিষাক্ত ধোঁয়ার কারণে শ্বাসকষ্ট শুরু হলে সহকর্মীদের সঙ্গে থাকা হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে সাহায্যের আকুতি জানান তিনি।
তার বার্তা ছিল, ‘আমাদের বাঁচান ভাই, দম বন্ধ হয়ে আসছে।’
এরপর আর কোনো বার্তা আসেনি।
খবর পেয়ে মাদ্রিদ সিটি কাউন্সিলের ফায়ার সার্ভিসের ১৩টি ইউনিট ঘটনাস্থলে যায়। দীর্ঘ চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার পাশাপাশি গ্যারেজে জমে থাকা বিষাক্ত গ্যাস অপসারণ করা হয়। আগুন পুনরায় ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে সেখানে থাকা অন্যান্য ইলেকট্রিক বাইসাইকেলও বাইরে সরিয়ে নেওয়া হয়।
তবে ততক্ষণে আলিফের মৃত্যু হয়। ঘটনাস্থলেই চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্র অনুযায়ী, বিষাক্ত ধোঁয়া ও শ্বাসনালিতে মারাত্মক দাহ্য ক্ষতের কারণে তার মৃত্যু হয়।
আলিফের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে স্পেনপ্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে শোক নেমে আসে। গত ৪ সেপ্টেম্বর মাদ্রিদের বায়তুল মোকাররম জামে মসজিদে প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির উদ্যোগে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।
আইনি প্রক্রিয়া ও প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে ১০ সেপ্টেম্বর মাদ্রিদের স্থানীয় সময় সকাল ৭টা ৪০ মিনিটে টার্কিশ এয়ারলাইন্সের টিকে-১৩৬০ ফ্লাইটে আলিফের কফিনবন্দী মরদেহ ইস্তাম্বুলের উদ্দেশে রওনা হয়। সেখান থেকে টিকে-৭৪২ ফ্লাইটে মরদেহ বাংলাদেশে আনা হয়।
শুক্রবার সকাল ৬টা ৫৭ মিনিটে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিমানটি অবতরণ করে। নির্ধারিত সময়ের ২৩ মিনিট বিলম্বে বিমানটি ঢাকায় পৌঁছায়। পরে মরদেহ কালীগঞ্জের উত্তরগাঁও গ্রামের বাড়িতে নেওয়া হয়।
মরদেহ বাড়িতে পৌঁছালে উত্তরগাঁও এলাকায় শোকের আবহ নেমে আসে। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ। শেষবারের মতো আলিফকে দেখতে বাড়িতে ছুটে আসেন প্রতিবেশী ও পরিচিতজনেরা।
কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জাকির হোসেন বলেন, ‘সকালে প্রবাসী বাংলাদেশি ইউসুফ হাসান আলিফের মরদেহ বাড়িতে এসে পৌঁছেছে। জানাজা শেষে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।’