‘সুস্থ মানুষ, সুন্দর সমাজ গড়ার প্রত্যয়’—এই স্লোগানকে সামনে রেখে রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ পৌরসভার মেয়র পদপ্রার্থী মো. জাহাঙ্গীর খানের উদ্যোগে দিনব্যাপী বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ও ওষুধ বিতরণ করা হয়েছে।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত শহরের শহীদ মহিউদ্দিন আনসার ক্লাব প্রাঙ্গণে এ মেডিকেল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়। এতে গোয়ালন্দ উপজেলা ও পৌরসভার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রায় ৪০০ অসহায় ও নিম্নআয়ের মানুষ চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করেন।
মেডিকেল ক্যাম্প সূত্রে জানা গেছে, দিনব্যাপী এ আয়োজনে অভিজ্ঞ তিনজন চিকিৎসক রোগীদের চিকিৎসাসেবা দেন। তারা হলেন—ঢাকা পিজি হাসপাতালের অর্থোপেডিক সার্জারি ও মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. শাহাদাত হোসাইন, ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রসূতি ও গাইনি রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. মাসাউন্নাহার বনানী এবং ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী রেজিস্ট্রার (মেডিসিন) ও স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. এ বি এম ফেরদৌস রহমান।
এ ছাড়া স্থানীয় চিকিৎসকরাও এ কার্যক্রমে সহযোগিতা করেন। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী রোগীদের প্রয়োজনীয় ওষুধ বিনামূল্যে সরবরাহ করা হয়।
চিকিৎসাসেবা নিতে আসা সেফালী আক্তার, জোসনা বেগম, হোসাইন প্রামাণিকসহ কয়েকজন বলেন, ‘আমরা গরিব মানুষ। চিকিৎসার জন্য অনেক টাকা প্রয়োজন হয়। ডাক্তার দেখাতে গেলেই ৫০০ টাকা বা তার বেশি ভিজিট দিতে হয়। এখানে জাহাঙ্গীর ভাইয়ের উদ্যোগে বিনামূল্যে ডাক্তার দেখানোর সুযোগ পেয়েছি। এতে আমাদের খুব উপকার হয়েছে। তার জন্য দোয়া রইল।’
কুরবান শেখ নামে এক রোগী বলেন, ‘একটি সড়ক দুর্ঘটনায় আমার কোমরের হাড় ভেঙে যায়। অর্থের অভাবে ঠিকমতো চিকিৎসা করাতে পারিনি। পরে জানতে পারি জাহাঙ্গীর ভাই বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা দিচ্ছেন। এখানে এসে অর্থোপেডিক চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়েছি। কিছু ওষুধ বাইরে থেকে কিনতে হবে বলে তাকে জানালে তিনি আমাকে ওষুধ কেনার টাকাও দিয়েছেন। তার মতো একজন মানবিক মানুষের জন্য সবসময় দোয়া থাকবে।’
এ বিষয়ে মেয়র পদপ্রার্থী মো. জাহাঙ্গীর খান বলেন, ‘আমি গোয়ালন্দ পৌরবাসীর সেবা করতে চাই। জনগণের সুখে-দুঃখে তাদের পাশে থাকতে চাই। পৌরসভার মানুষ কীভাবে ভালো থাকবে, সেই চিন্তা থেকেই আমি সামাজিক ও উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে যাচ্ছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘গোয়ালন্দ পৌরসভাকে একটি আধুনিক ও উন্নত পৌরসভা হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। জনগণ আমাকে চাইলে ইনশাআল্লাহ সারা জীবন তাদের পাশে থেকে সেবা করে যেতে চাই।’
বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা পেয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন স্থানীয় রোগী ও তাদের স্বজনরা। তারা এ ধরনের মানবিক ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।
এফপি/র