ময়মনসিংহের ধোবাউড়া উপজেলায় নিখোঁজের কয়েক ঘণ্টা পর ৫ বছর বয়সী এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। রোববার (১৪ জুন) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে কংস নদী থেকে শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত শিশুটি ধোবাউড়া উপজেলার গোয়াতলা ইউনিয়নের বাসিন্দা।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, রোববার (১৪ জুন) বিকেলে বাড়ির পাশ থেকে হঠাৎ নিখোঁজ হয় ৫ বছরের ওই শিশুটি। নিখোঁজের পর পরিবারের সদস্যরা সম্ভাব্য সব স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাননি। পরবর্তীতে একই দিন সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে স্থানীয় লোকজন কংস নদীতে একটি শিশুর মরদেহ ভাসতে দেখেন। খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটির মরদেহ শনাক্ত করেন।
স্বজনদের ভাষ্যমতে, কংস নদী থেকে মরদেহ উদ্ধারের পর রাতেই যখন শিশুটিকে শেষ গোসল করানোর প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছিল, তখন তারা তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে স্পষ্ট আঘাতের চিহ্ন দেখতে পান। একই সঙ্গে শিশুটির শরীরে রক্তক্ষরণের আলামতও লক্ষ্য করা যায়। এসব আলামত দেখে স্বজনদের মনে দৃঢ় সন্দেহ তৈরি হয় যে, শিশুটিকে পাশবিক নির্যাতনের পর অত্যন্ত নির্মমভাবে হত্যা করে নদীতে ফেলে দেয়া হয়েছে। পরে বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে থানা পুলিশকে অবহিত করা হয়।
খবর পেয়ে ধোবাউড়া থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে। পরে আজ সোমবার মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়।
ধোবাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম জানান, ‘খবর পেয়ে আমরা রাত সাড়ে ১২টার দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছাই। প্রাথমিকভাবে পরীক্ষা করে শিশুটির শরীরে কিছু স্পর্শকাতর আলামত পাওয়া গেছে, যা দেখে ধর্ষণের ঘটনা ঘটতে পারে বলে প্রবল সন্দেহ হচ্ছে। তবে মৃত্যুর প্রকৃত ও সুনির্দিষ্ট কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর।’
ওসি আরও উল্লেখ করেন, ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনে পুলিশ ইতোমধ্যেই জোরদার তদন্ত শুরু করেছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এবং তদন্তের অগ্রগতির ওপর ভিত্তি করে জড়িত অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এফপি/অ