পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় জীবাশ্ম জ্বালানিভিত্তিক মেগা প্রকল্প নির্মাণের কারণে স্থানীয় মানুষের জীবনযাত্রায় বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে বলে গণগবেষণার ফলাফলে উঠে এসেছে। বেসরকারি সংস্থা প্রান্তজনের উদ্যোগে স্থানীয় মানুষের অংশগ্রহণে দুই বছরব্যাপী পরিচালিত এ গণগবেষণার ফলাফল মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) প্রকাশ করা হয়।
সোমবার (৩ অগাস্ট) বেলা ১১টায় কলাপাড়া উপজেলা পরিষদের হলরুমে আয়োজিত অনুষ্ঠানে গণগবেষণার ফলাফল উপস্থাপন করা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আরিফুজ্জামান, অ্যাকশনএইডের সহকারী প্রোগ্রাম অফিসার মারজিয়া জাহান, প্রান্তজনের ফিল্ড কোঅর্ডিনেটর সাইফুল্লাহ মাহমুদ, প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তা এবং ধানখালী ইউনিয়নের বাসিন্দারা।
গবেষণার ফলাফল উপস্থাপনকালে জানানো হয়, ধানখালী এলাকায় কয়েকটি অপরিকল্পিত জীবাশ্ম জ্বালানিভিত্তিক মেগা প্রকল্প (তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র) নির্মাণের পর স্থানীয় মানুষের জীবনযাত্রায় নজিরবিহীন পরিবর্তন দেখা দিয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে দুই বছর আগে প্রান্তজনের উদ্যোগে পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ ও বিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আরিফুর রহমানের সহযোগিতায় ২০ জন স্থানীয় বাসিন্দাকে নিয়ে এ গণগবেষণা পরিচালনা করা হয়।
গবেষণায় উঠে এসেছে, স্থানীয় বাসিন্দাদের আর্থিক স্বচ্ছলতার অবনতি, ক্রমবর্ধমান সামাজিক সংকট, চিরায়ত পেশার বিলুপ্তি, পরিবেশগত বিপর্যয়, সুপেয় পানির সংকট, বিশুদ্ধ বায়ুর অভাব, জীববৈচিত্র্য ও বাস্তুসংস্থানের ক্ষয়, মাটির লবণাক্ততা বৃদ্ধি, কৃষি উৎপাদনে বিপর্যয়, জনস্বাস্থ্য সংকট, বহুমাত্রিক রোগব্যাধির বিস্তার, নারীদের ওপর লিঙ্গভিত্তিক বিরূপ প্রভাব এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের ক্ষয়ক্ষতিসহ নানা নেতিবাচক দিক।
গবেষণায় বিষাক্ত কয়লা বর্জ্য ও ফ্লাই অ্যাশের বিস্তার বন্ধ, বিনামূল্যে সোলার হোম সিস্টেম ও বায়োগ্যাস প্ল্যান্টসহ নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবস্থা নিশ্চিত করার পাশাপাশি মোট পাঁচটি সুপারিশ বাস্তবায়নের আহ্বান জানানো হয়।
অনুষ্ঠান শেষে গণগবেষণায় অংশগ্রহণকারী স্থানীয় বাসিন্দাদের হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেওয়া হয়।
এফপি/র