নোয়াখালীর হাতিয়ায় কোস্টগার্ডের বিরুদ্ধে এক ব্যবসায়ীকে অস্ত্র দিয়ে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগ তুলে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসী। অভিযুক্ত ব্যবসায়ীর পরিবারের দাবি, তাকে পরিকল্পিতভাবে নির্যাতন করে অস্ত্র উদ্ধারের নাটক সাজিয়ে মামলা দেওয়া হয়েছে।
শনিবার (২৩ মে) দুপুরে উপজেলার চরকিং ইউনিয়নের ভৈরব বাজার এলাকায় এ মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।
এতে বাজারের ব্যবসায়ী, এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগীর স্বজনরা অংশ নেন। কয়েক হাজার নারী-পুরুষের উপস্থিতিতে পুরো এলাকা উত্তাল হয়ে ওঠে প্রতিবাদী স্লোগানে।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন ভৈরব বাজার বণিক সমিতির আহ্বায়ক কবির মিয়া, ব্যবসায়ী রাশেদ, নাজিম, ইরাক, স্বপনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, আমজাদ হোসেন বিদ্যুৎ একজন সাধারণ ব্যবসায়ী। স্থানীয় বাজারে দীর্ঘদিন ধরে সুনামের সঙ্গে ব্যবসা করে আসছেন তিনি। তার বিরুদ্ধে পূর্বে কখনো অস্ত্র বা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের কোনো অভিযোগ ছিল না। তাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ফাঁসানো হয়েছে বলে দাবি করেন তারা।
ভুক্তভোগীর মা লুৎফা আরা বেগম অভিযোগ করে বলেন, কোস্টগার্ড সদস্যরা আমার ছেলেকে বাজার থেকে হাত বেঁধে বাড়িতে নিয়ে আসে। আমি জানতে চাইলে তারা কোনো উত্তর না দিয়ে তাকে বাড়ির ছাদে নিয়ে মারধর শুরু করে। তার চিৎকার শুনে আশপাশের মানুষ জড়ো হতে থাকলে পরে তাকে নিচে নামিয়ে হাঁস-মুরগির খোপের সামনে নিয়ে যায়। কিছুক্ষণ পর সেখান থেকে বের হয়ে বলে অস্ত্র পাওয়া গেছে। অথচ সন্ধ্যায় আমি নিজেই হাঁস-মুরগি বেঁধে রেখেছি। সেখানে আগে কোনো অস্ত্র বা এমন কিছু ছিল না।
বিদ্যুতের স্ত্রী পারভীন আক্তার বলেন, আমার স্বামীকে বিনা কারণে মারধর করা হচ্ছিল। আমি বাধা দিলে কোস্টগার্ড সদস্যরা আমাকে গালিগালাজ করে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয়। পরে ঘরে থাকা স্বর্ণালংকার ও ব্যবসার নগদ টাকাও নিয়ে যায়। এরপর তারা নিজেরাই খোপের ভেতরে কিছু রেখে ভিডিও ধারণ করে অস্ত্র উদ্ধারের দাবি করে।
ভুক্তভোগী আমজাদ হোসেন বিদ্যুৎ (৩৬) চরকিং ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বোয়ালিয়া গ্রামের হাজি আবুল কালামের ছেলে। তিনি স্থানীয় ভৈরব বাজারের একজন ব্যবসায়ী।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া বক্তারা আরও অভিযোগ করেন, কোস্টগার্ডের নির্যাতনের সময় বিদ্যুতের চিৎকার শুনে এলাকাবাসী এগিয়ে এলে সদস্যরা এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়ে। এতে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
পরে মানববন্ধন শেষে বিদ্যুতের মুক্তি ও ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিতে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি ভৈরব বাজারের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে।
উল্লেখ্য, শনিবার সকালে কোস্টগার্ড সদস্যরা আমজাদ হোসেন বিদ্যুৎকে অস্ত্রসহ হাতিয়া থানায় হস্তান্তর করে। এর আগে শুক্রবার রাতে চরকিং ভৈরব বাজার এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। পরে তার বাড়ির হাঁস-মুরগির ঘর থেকে একটি অস্ত্র উদ্ধারের দাবি করে কোস্টগার্ড। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে শনিবার এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।
এফপি/জেএস