সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং বনাঞ্চলের নাজুক পরিবেশকে প্লাস্টিক ও পলিথিন দূষণের ভয়াবহতা থেকে রক্ষার লক্ষ্যে নেছারাবাদে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণে এক অভিজ্ঞতা বিনিময় কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (২৩ মে) বেলা ১১টায় নেছারাবাদ উপজেলা অডিটোরিয়ামে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা “রূপান্তর”-এর আয়োজনে এ গুরুত্বপূর্ণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন ইয়ুথ ফর দ্য সুন্দরবন নেছারাবাদ উপজেলা শাখার আহ্বায়ক সুর্বনা আক্তার। মো. হারিসুল ইসলামের সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন স্বরূপকাঠি পৌরসভার সাবেক মেয়র শফিকুল ইসলাম ফরিদ।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বরূপকাঠি পৌরসভার সচিব মো. সাইফুর রহমান, নেছারাবাদ থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) সঞ্জয় মজুমদার, উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা উজ্জ্বল কুমার দেবনাথ, মৎস্য কর্মকর্তা ফারিয়া কনক, কৃষি কর্মকর্তা মাহফুজুর রহমান এবং প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা তাপস কুমার ঘোষসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা।
অনুষ্ঠানটির সার্বিক ব্যবস্থাপনায় ছিলেন রূপান্তর পিরোজপুর জেলা প্রজেক্ট অফিসার শাহিদা বানু সোনিয়া।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন নেছারাবাদ উপজেলা সুন্দরবন জার্নালিস্ট ফোরামের আহ্বায়ক মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন, সাংবাদিক হাবিবুল্লাহ মিঠু, নিলুফা ইয়াসমিন, ট্যুর অপারেটর মো. রফিকুল ইসলামসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। ইয়ুথ ফর দ্য সুন্দরবনের সদস্যরাও কর্মশালায় সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন।
বক্তারা বলেন, প্লাস্টিক ও পলিথিনের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার সুন্দরবনের নদী, খাল, চরাঞ্চল এবং বন্যপ্রাণীর অস্তিত্বের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। পলিথিন বন্যপ্রাণীর খাদ্যগ্রহণে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে এবং নদীর পানি দূষিত হয়ে মাছসহ জলজ সম্পদের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে।
তারা আরও বলেন, সুন্দরবনের সঙ্গে সম্পৃক্ত বনজীবীরাই পরিবেশ রক্ষার প্রথম সারির যোদ্ধা। তাদের সচেতনতা ও মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা প্লাস্টিক দূষণ প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীরা সুন্দরবনকে প্লাস্টিকমুক্ত রাখতে স্থানীয় পর্যায়ে কঠোর নজরদারি, বর্জ্য কমানোর উদ্যোগ এবং পরিবেশবান্ধব বিকল্প ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
এফপি/জেএস