কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার ধরলা নদীর ওপর প্রস্তাবিত সেতু নির্মাণের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে স্থান পরিদর্শন করেছেন চীনের রোড ব্রিজ কর্পোরেশনের ৫ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল।
শনিবার (২৩ মে) দুপুরে সদর উপজেলার শিবরাম বাংটুরঘাট এলাকায় গিয়ে তারা সেতু নির্মাণের সম্ভাব্য স্থান ও কারিগরি বিষয় পরিদর্শন করেন।
চীনা রোড ব্রিজ কর্পোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী জাইয়া সাইয়ের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলে ছিলেন, বিজনেস ম্যানেজার ইউ জিগিং, মার্কেটিং ম্যানেজার ওয়াং জিংওয়েই, ডিজাইন ইঞ্জিনিয়ার পেংটাও এবং অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার শানতোনো।
পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশের সেতু বাস্তবায়ন ও ভবন ব্যবস্থাপনা ইউনিটের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মোঃ এবাদত আলী, কুড়িগ্রাম এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ সাইফুল ইসলাম, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা, যুগ্ম আহ্বায়ক হাসিবুর রহমান হাসিব, কুড়িগ্রাম জেলা উন্নয়ন ও বাস্তবায়ন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক সাইয়েদ আহমেদ বাবু সহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ।
জানা যায়, সদর উপজেলার শিবরাম বাংটুরঘাট এলাকায় ধরলা নদীর ওপর প্রায় ১৭৫০ মিটার দীর্ঘ একটি সেতু নির্মাণের প্রস্তাবনা দিয়েছে এলজিইডি। দীর্ঘদিন ধরে ধরলা নদী দ্বারা বিচ্ছিন্ন ফুলবাড়ী, নাগেশ্বরী ও ভূরুঙ্গামারী উপজেলার মানুষের দাবি এবং প্রধানমন্ত্রী'র রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী আহমেদ অবহেলিত কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ি উপজেলা এবং শহরের মানুষের দুঃখ দর্শা লাঘবে তিনি গত ২৩/০৪/২০২৬ইং তারিখে ডি.ও. পত্র নং-০৬.০০.০০০০.০৩৪.৩২.০০১.২৬.১৫ মোতাবেক পল্লী সড়কে গুরুত্বপূর্ণ সেতু নির্মাণের সমীক্ষা প্রকল্প (২য় পর্যায়) এর আওতায় কুড়িগ্রাম জেলার সদর উপজেলাধীন হলোখানা ইউনিয়নের শিবরাম হতে পানি উন্নয়ন বোর্ড এর বাঁধ পর্যন্ত সড়কের ১৭৫০ মিটার চেইনেজ (বাংটুরঘাট স্থানে) ধরলা নদীর উপর আনুমানিক ৯০০ মিটার ব্রীজ নির্মাণের প্রস্তাব প্রেরণ করেন। এরই প্রেক্ষিতে এবং স্থানীয় জনগণের দাবিকে গুরুত্বের সাথে বিবেচনায় নিয়ে সরকার এই উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
স্থানীয়রা বলছেন, সেতুটি নির্মিত হলে তিন উপজেলার প্রায় ৮ লাখ মানুষের যাতায়াতে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে। পাশাপাশি জেলার ভুরুঙ্গামারী সোনাহাট স্থলবন্দর কেন্দ্রিক পণ্য পরিবহনেও গতি আসবে, যা এ অঞ্চলের অর্থনীতি ও জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বাংলাদেশের সেতু বাস্তবায়ন ও ভবন ব্যবস্থাপনা ইউনিটের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মোঃ এবাদত আলী বলেন, ঈদের পর একটি স্টাডি টিম এসে সেতু নির্মাণের সম্ভাব্যতা ও বিস্তারিত সুবিধা নিয়ে কাজ করবে। তাদের রিপোর্ট পাওয়ার পর পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এফপি/জেএস