পবিত্র ঈদুল আজহা সামনে রেখে বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম এলাকায় কোরবানির পশুর হাটকে কেন্দ্র করে সক্রিয় হয়ে উঠেছে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট—এমন অভিযোগে উত্তাল হয়ে উঠেছে স্থানীয় জনপদ। দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যবাহী তুমব্রু বাজারের হাট সরিয়ে উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা শিবিরসংলগ্ন এলাকায় নেওয়ার উদ্যোগকে ঘিরে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা।
স্থানীয় সূত্র জানায়, ঘুমধুম ইউনিয়ন পরিষদের পাশের তুমব্রু বাজারে বছরের পর বছর ধরে কোরবানির পশুর হাট বসে আসছে। এটি জেলা পরিষদের তালিকাভুক্ত বাজার হওয়ায় নিয়মতান্ত্রিকভাবেই পরিচালিত হয়ে আসছিল। তবে সম্প্রতি একটি চক্র কৌশলে হাটটি সরিয়ে উখিয়া উপজেলার কুতুপালং টিভি টাওয়ার সংলগ্ন আলুগোলার মাঠ এলাকায় স্থানান্তরের উদ্যোগ নেয়।
অভিযোগ রয়েছে, কোটির টাকার লেনদেনের সম্ভাবনা ঘিরেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, একটি প্রভাবশালী মহল রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে হাটের ইজারা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা করছে।
ঘুমধুম ইউনিয়নের একাধিক সচেতন বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, “এটা শুধু হাট স্থানান্তরের বিষয় না, এর পেছনে বড় অঙ্কের অর্থনৈতিক স্বার্থ জড়িত। পরিকল্পিতভাবে তুমব্রু বাজারের ঐতিহ্য নষ্ট করে অন্যত্র নেওয়ার চেষ্টা চলছে।”
স্থানীয় ব্যবসায়ী মো. আবদুল করিম বলেন, “আমরা বহু বছর ধরে তুমব্রু বাজারে হাট বসিয়ে আসছি। এখানে যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো, ক্রেতা-বিক্রেতার সুবিধা আছে। হাট সরালে আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হবো।”
অন্যদিকে, ঘুমধুম ইউনিয়নের এক জনপ্রতিনিধি জানান, “প্রস্তাবিত আলুগোলার মাঠ এলাকায় আমাদের ইউনিয়নের কোনো জনবসতি নেই। এটি মূলত উখিয়া এলাকার কাছাকাছি এবং রোহিঙ্গা ক্যাম্প সংলগ্ন হওয়ায় নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।”
এদিকে বিষয়টি নিয়ে একটি লিখিত আবেদন জমা পড়ার পর বান্দরবান জেলা পরিষদ একটি তদন্ত দল পাঠায়। দলটি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে একই দিন ফিরে যায়। তবে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা বলেন, “আমরা সরেজমিন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেছি। সব দিক বিবেচনা করে জেলা পরিষদ সিদ্ধান্ত নেবে।”
তবে অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত পক্ষের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয়দের দাবি, জনস্বার্থ, নিরাপত্তা ও যোগাযোগ ব্যবস্থা বিবেচনায় কোরবানির পশুর হাট পূর্বের স্থান তুমব্রু বাজারেই রাখা হোক। একইসঙ্গে তারা প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ ও স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটনের আহ্বান জানিয়েছেন।
এ ঘটনায় পুরো এলাকায় উদ্বেগ বিরাজ করছে, আর ঈদকে সামনে রেখে পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়—সেদিকেই তাকিয়ে স্থানীয় জনগণ।
এফপি/অ