কুড়িগ্রামের চিলমারীতে টানা কয়েক দিনের বৃষ্টি ও রোদের অভাবে ভুট্টা চাষে বড় ধরনের বিপর্যয়ের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। মৌসুমজুড়ে ভালো ফলনের আশা থাকলেও শেষ সময়ে আবহাওয়ার প্রতিকূলতায় সেই সম্ভাবনা এখন দুশ্চিন্তায় পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে প্রান্তিক কৃষকেরা পড়েছেন সবচেয়ে বেশি বিপাকে।
উপজেলার চিলমারী, নয়ারহাট ও অষ্টমীচর ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকায় এ বছর ভুট্টার আবাদ হয়েছিল সন্তোষজনক। কিন্তু ধারাবাহিক বৃষ্টি ও গুমোট আবহাওয়ার কারণে মাঠ থেকে সংগ্রহ করা ভুট্টা শুকানো যাচ্ছে না। ফলে ঘরে তোলা ফসলেও পচন ধরার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। অনেক কৃষক ভুট্টা মাড়াই করে স্তূপ করে রাখলেও রোদ না থাকায় তা ছড়িয়ে শুকাতে পারছেন না।
সরেজমিন উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, জমিতে স্তূপ করে রাখা ভুট্টার দানায় ছত্রাক ধরছে। কোথাও কোথাও ভেজা ভুট্টায় অঙ্কুরোদগম শুরু হয়েছে। হঠাৎ বৃষ্টিতে খোলা স্থানে রাখা ভুট্টা ভিজে গিয়ে নষ্ট হওয়ার ঘটনাও বাড়ছে। এতে উৎপাদিত ফসলের গুণগত মান কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
চরাঞ্চলের কৃষকেরা জানান, বালুমিশ্রিত জমিতে এ বছর ফলন ভালো হলেও রোদের অভাবে সেই ফসল এখন তাদের জন্য বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। কৃষকদের ভাষ্য, ‘এভাবে আর কয়েকদিন চললে ভুট্টা কালো হয়ে যাবে, বাজারে ন্যায্য দাম পাওয়া যাবে না।’
অষ্টমীচর ইউনিয়নের নটারকান্দি এলাকার ছকের আলী, ছোরমান আলী ও মজিবর রহমান ফকিরসহ অন্তত অর্ধশতাধিক কৃষক জানান, এক থেকে পাঁচ বিঘা জমির ভুট্টা ঘরে তুলতে গিয়ে টানা প্রায় ১০ দিনের বৃষ্টিতে তারা মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। অনেকের ভুট্টা গজিয়ে গেছে, কোথাও পচা গন্ধ ছড়াচ্ছে, আবার কারো ক্ষেত্রে গাছে থাকা অবস্থাতেই অঙ্কুর দেখা দিয়েছে।
এ পরিস্থিতিতে উপজেলা কৃষি অফিস কৃষকদের করণীয় সম্পর্কে পরামর্শ দিচ্ছে। ভেঙে পড়া গাছ দ্রুত সংগ্রহ, পরিপক্ক গাছের মাথা কেটে মোচার অংশ নিচের দিকে রাখা এবং শুকানোর পর আর্দ্রতা ১৪ শতাংশের নিচে নামিয়ে সংরক্ষণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
চিলমারী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কনক চন্দ্র রায় জানান, চলতি মৌসুমে ২ হাজার ৩২০ হেক্টর জমিতে ভুট্টা চাষ হয়েছে। ক্ষতি কমাতে মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে এবং ক্ষতিগ্রস্থদের প্রণোদনার আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
এফপি/অ