খুলনার কয়রা উপজেলার কালনা আলিম মহিলা মাদরাসায় তীব্র শ্রেণিকক্ষ সংকট দেখা দিয়েছে। পর্যাপ্ত ভবন না থাকায় রোদে পুড়ে ও বৃষ্টিতে ভিজে খোলা আকাশের নিচে গাছতলায় পাঠদান করছে ছাত্রীরা। সরেজমিনে গিয়ে এমন চিত্র দেখা গেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, মাদরাসার পুরোনো টিনশেড ঘরে স্থান সংকুলান না হওয়ায় অনেক ছাত্রী খোলা জায়গায় মাদুর ও বস্তা পেতে বসে ক্লাস করছে। একদিকে প্রচণ্ড গরম, অন্যদিকে বৈরী আবহাওয়ার শঙ্কায় সবসময় আতঙ্কে থাকতে হয় তাদের। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে বা প্রখর রোদে পাঠদান প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে।
কয়েকজন শিক্ষার্থী জানায়, ক্লাস করার মতো পর্যাপ্ত বেঞ্চ বা কক্ষ নেই। খোলা মাঠে বসে ক্লাস করতে গিয়ে নানা সমস্যায় পড়তে হয়। আশপাশে মানুষের চলাচল থাকায় পড়াশোনায় মনোযোগ দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। দ্রুত একটি নতুন ভবন নির্মাণের দাবি তাদের।
উপকূলীয় জনপদ কয়রায় নারী শিক্ষাকে এগিয়ে নিতে এবং ছাত্রীদের দুর্ভোগ লাঘবে দ্রুত মাদরাসাটিতে নতুন ভবন নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন অভিভাবক ও সচেতন মহল।
মাদরাসা কর্তৃপক্ষ জানায়, প্রতিষ্ঠানটি এলাকায় নারী শিক্ষার প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। প্রতিবছর ছাত্রীর সংখ্যা বাড়লেও সেই অনুপাতে অবকাঠামোগত উন্নয়ন হয়নি। বিষয়টি স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের বারবার জানানো হলেও এখনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
মাদরাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা শাহবাজ আলী বলেন, শ্রেণিকক্ষ সংকটের কারণে বাধ্য হয়ে ছাত্রীদের বাইরে বসিয়ে পাঠদান করতে হচ্ছে। শিক্ষার গুণগত মান ধরে রাখতে দ্রুত একটি আধুনিক একাডেমিক ভবন নির্মাণ জরুরি।
তিনি জানান, বর্তমানে চার শতাধিক ছাত্রীর বিপরীতে পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষ নেই। চলমান তিনটি কক্ষের কাজ শেষ হলেও সংকট কাটবে না। সুষ্ঠুভাবে পাঠদান চালাতে আরও অন্তত পাঁচটি বড় কক্ষ প্রয়োজন।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ বলেন, কালনা মহিলা মাদরাসার শ্রেণিকক্ষ সংকটের বিষয়টি তাদের নজরে এসেছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরে নতুন ভবনের জন্য চাহিদাপত্র পাঠানো হবে। দ্রুতই একটি একাডেমিক ভবন বরাদ্দের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।