সুনামগঞ্জ শহরের লঞ্চঘাট এলাকায় লঞ্চঘাট পূর্বইব্রাহীমপুর খেয়াঘাটে যাত্রী ছাউনি নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করা হয়েছে।
সোমবার সকালে জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে এ নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেন।
উদ্বোধন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক অসিম চন্দ্র বনিক, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) সমর কুমার পাল, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আয়েশা আক্তার, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মতিউর রহমান ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সুনজিত দাস।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সুনামগঞ্জ পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী কালীকৃষ্ণ পাল, সহকারী প্রকৌশলী মো. আশরাফুল ইসলাম কয়েস, সুনামগঞ্জের সিনিয়র সাংবাদিক আকরাম উদ্দিন, স্থানীয় ইউপি সদস্য মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন, সমাজসেবক মোহাম্মদ রাসেল আহমদ, মোহাম্মদ কমলা মিয়া, বদরুল আলম বাবু মিয়া, সফি উদ্দিনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
উদ্বোধনকালে জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া বলেন, লঞ্চঘাট এলাকাকে সুনামগঞ্জ শহরের অন্যতম পরিবেশবান্ধব ও নান্দনিক স্থান হিসেবে গড়ে তোলা হবে। এখানে মানুষ পরিবার-পরিজন নিয়ে সুন্দর ও নিরিবিলি পরিবেশে সময় কাটাতে পারবেন।
তিনি আরও বলেন, লঞ্চঘাট এলাকা হবে একটি স্বাস্থ্যসম্মত ও পরিচ্ছন্ন স্থান। এখানে কোনো অবৈধ কিংবা অনৈতিক কর্মকাণ্ড সহ্য করা হবে না। এলাকাটি ময়লা-আবর্জনা ও দুর্গন্ধমুক্ত রাখতে স্থানীয়দের সচেতন থাকতে হবে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে লঞ্চঘাট এলাকায় সার্বক্ষণিক প্রশাসনের নজরদারি থাকবে।
যাত্রী ছাউনি নির্মাণ কাজের উদ্বোধনে সন্তোষ প্রকাশ করে পূর্বইব্রাহীমপুর গ্রামবাসী জেলা প্রশাসকের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। তারা বলেন, আবেদন করার প্রথম দিনই জেলা প্রশাসক যাত্রী ছাউনি নির্মাণের আশ্বাস দিয়েছিলেন এবং তিনি তাঁর দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেছেন। গ্রামবাসী তাঁকে একজন সত্যবাদী ও সৎ প্রশাসক হিসেবে আখ্যায়িত করে তাঁর সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করেন।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ৮ এপ্রিল পূর্বইব্রাহীমপুর গ্রামের বাসিন্দারা খেয়াঘাটে যাত্রী ছাউনি নির্মাণের দাবিতে জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করেন। এরই ধারাবাহিকতায় দীর্ঘ প্রক্রিয়া শেষে গত ১ জানুয়ারি প্রশাসনের উদ্যোগে লঞ্চঘাট এলাকায় অবৈধ দখলে থাকা প্রায় ৩১ শতক সরকারি ভূমি উদ্ধার করা হয়, যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ১০ কোটি টাকা। ভূমি উদ্ধার কার্যক্রমের পর যাত্রী ছাউনি নির্মাণের উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হয়।
এফপি/অ