ডেডলাইন ক্রমেই ঘনিয়ে এলেও আসন্ন টি২০ বিশ্বকাপ নিয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানায়নি পাকিস্তান। স্কোয়াড চূড়ান্ত করার সময়সীমা প্রায় শেষ হলেও পাকিস্তান বিশ্বকাপে অংশ নেবে কি না, সে বিষয়ে স্পষ্ট অবস্থান নেই পাকিস্তান সরকার কিংবা পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের পক্ষ থেকে।
গেল সপ্তাহে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের সঙ্গে বৈঠক করেন পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি। বৈঠক শেষে নাকভি জানিয়েছিলেন, শুক্রবার অথবা সোমবারের মধ্যে বিশ্বকাপ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হবে। শুক্রবার পেরিয়ে গেলেও এখনো কোনো ঘোষণা আসেনি। এদিকে আইসিসির নির্ধারিত সময় অনুযায়ী ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত বিশ্বকাপ স্কোয়াডে পরিবর্তনের সুযোগ থাকলেও পাকিস্তানের অংশগ্রহণ নিয়েই তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা।
গত ২৬ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত শেহবাজ শরিফ ও মহসিন নাকভির বৈঠকের পর প্রধানমন্ত্রী জানান, সব বিকল্প খোলা রেখেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে সেই বিকল্পগুলো কী, সে বিষয়ে স্পষ্ট করে কিছু জানানো হয়নি। এই অস্পষ্টতাই বিশ্বকাপ ঘিরে নতুন করে জল্পনা বাড়িয়েছে।
এর মধ্যে পাকিস্তানের একাধিক গণমাধ্যম দাবি করেছে, বিশ্বকাপে ভারত পাকিস্তান ম্যাচ বয়কট করা হতে পারে অথবা বাংলাদেশকে জয় উৎসর্গ করার মতো প্রতীকী সিদ্ধান্তও আসতে পারে। যদিও এসব বিষয়ে পিসিবি আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু বলেনি।
বিশ্বকাপ বয়কটের সম্ভাবনা নিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গনেও আলোচনা চলছে। ভারতের বিশ্লেষক হার্শা ভোগলে মনে করেন, পাকিস্তান শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপে খেলবেই। তার মতে, সিদ্ধান্ত নিতে দেরি করে পাকিস্তান কেবল কোলাহল সৃষ্টি করছে। ভোগলের ভাষায়, পাকিস্তান জানে বিশ্বকাপে না খেললে তাদের ক্রিকেটে এর বড় প্রভাব পড়বে।
ভারতীয় ক্রিকেটার অজিঙ্কা রাহানে আরও সরাসরি মন্তব্য করেছেন। তার মতে, বিশ্বকাপ বয়কট করার মতো সাহস পাকিস্তানের নেই। রাহানে বলেন, পাকিস্তান না এসে থাকতে পারবে না এবং শেষ পর্যন্ত তাদের খেলতেই হবে।
বিশ্বকাপে ভারত পাকিস্তান ম্যাচকে সবচেয়ে আকর্ষণীয় ম্যাচগুলোর একটি হিসেবে ধরা হয়। এই ম্যাচ না হলে দর্শক ও স্পনসরদের আগ্রহ কমে যাওয়ার পাশাপাশি আইসিসির আর্থিক ক্ষতির সম্ভাবনাও রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ ইস্যুকে কেন্দ্র করেই মূলত পাকিস্তানের এই অবস্থান। ভারতে নিরাপত্তা শঙ্কার কথা জানিয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড আইসিসির কাছে ভেন্যু পরিবর্তনের অনুরোধ করেছিল। আইসিসি তা নাকচ করে বাংলাদেশকে বাদ দিয়ে স্কটল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেয়। এই সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ হয়ে পিসিবি দাবি করে, পূর্ণ সদস্য দেশ হিসেবে বাংলাদেশেরও হাইব্রিড মডেলের সুবিধা পাওয়া উচিত ছিল।
এই পরিস্থিতির মধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনায় আসে আইসল্যান্ড ক্রিকেট। তারা রসিকতার ছলে জানায়, পাকিস্তান যদি বিশ্বকাপ থেকে সরে দাঁড়ায়, তবে তাদের জায়গায় খেলতে তারা প্রস্তুত। বিষয়টি দ্রুতই ক্রিকেটপ্রেমীদের মধ্যে আলোচনার জন্ম দেয়।
উল্লেখ্য, হাইব্রিড মডেলের আওতায় পাকিস্তান তাদের সব ম্যাচ শ্রীলঙ্কার কলম্বোতে খেলবে। আইসিসির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, স্বাধীন নিরাপত্তা মূল্যায়নে ভারতে বাংলাদেশের জন্য কোনো বিশ্বাসযোগ্য হুমকি পাওয়া যায়নি।
সব মিলিয়ে এখন শেষ পর্যন্ত দেখার বিষয়, পাকিস্তান সরকার ও পিসিবি মিলে কী সিদ্ধান্ত নেয় এবং সেই সিদ্ধান্ত বিশ্বকাপের গতিপথে কী প্রভাব ফেলে।
এফপি/অ