| শিরোনাম: |

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গ্যাস বিতরণ ব্যবস্থা ও গ্রাহকসেবা নিয়ে গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) শহরের সুরসম্রাট আলাউদ্দিন খাঁ সঙ্গীতাঙ্গনের মিলনায়তনে বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (বিজিডিসিএল)-এর উদ্যোগে এ গণশুনানির আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসক শারমিন আক্তার জাহান। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জেলা পুলিশ সুপার শাহ মো. আব্দুর রউফ, বিজিডিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (চলতি দায়িত্ব) প্রকৌশলী মো. ফজলে আলমসহ প্রশাসন ও গ্যাস কোম্পানির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
গণশুনানিতে বক্তারা বলেন, তিতাস গ্যাসের অধীনে থাকাকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার গ্রাহকরা তুলনামূলকভাবে ভালো ও নিরাপদ গ্যাস সরবরাহ পেতেন। বর্তমানে বাখরাবাদ গ্যাসের আওতায় গ্রাহকসেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। তাই গ্রাহকদের স্বার্থে বাখরাবাদ গ্যাসকে পুনরায় ‘তিতাস’ নামে নামকরণের দাবি জানান তারা।
গ্রাহক পর্যায় থেকে অভিযোগ করা হয়, প্রায় প্রতিরাতেই গ্যাস লাইন বন্ধ রাখা হয়। দিনের বেলাতেও গ্যাসের চাপ এত কম থাকে যে চুলা ঠিকভাবে জ্বলে না। মাসের পর মাস এ অবস্থার কোনো কার্যকর সমাধান না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন ভুক্তভোগীরা। দ্রুত সমস্যার সমাধান না হলে আন্দোলন গড়ে তোলার হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়।
বক্তারা আরও দাবি করেন, অবৈধ গ্যাস সংযোগ দ্রুত বিচ্ছিন্ন করতে হবে, নতুন সংযোগের জন্য ডিমান্ড নোট অনুযায়ী টাকা জমা নেওয়ার পরও যেসব সংযোগ দেওয়া হয়নি, সেগুলো দ্রুত চালু করতে হবে। পাশাপাশি দেশি-বিদেশি চোরাই গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করার দাবিও তোলা হয়। বিগত সরকার ভারতের সঙ্গে কোনো গোপন চুক্তির মাধ্যমে গ্যাস সরবরাহ করে থাকলে তা বন্ধ করার আহ্বান জানানো হয়।
গণশুনানিতে বক্তৃতাকালে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা একাধিকবার জনতার প্রতিবাদের মুখে পড়েন। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
বাখরাবাদ গ্যাস কর্তৃপক্ষ জানায়, জেলায় বর্তমানে প্রায় ৫২ হাজার বৈধ গ্যাস সংযোগ রয়েছে। এর বাইরে প্রায় ২৫ হাজার অবৈধ সংযোগ চিহ্নিত করা হয়েছে। এছাড়া গ্যাস লাইনের অধিকাংশ অংশ পুরাতন হওয়ায় লিকেজ ও অপচয়ের মাধ্যমে অতিরিক্ত সিস্টেম লস হচ্ছে।
সমস্যা সমাধানে কর্তৃপক্ষ আশ্বাস দিয়ে জানায়, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় অতিরিক্ত দুই মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ বৃদ্ধি করা হবে। পাশাপাশি লিকেজ ও অপচয় রোধে রাত ১২টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত সাময়িকভাবে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
গণশুনানিতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং স্থানীয় জনগণ অংশগ্রহণ করেন।
এফপি/জেএস