হবিগঞ্জে এক প্রভাবশালী যুবদল নেতার সঙ্গে এক প্রবাসীর স্ত্রীর অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
একই সঙ্গে ওই প্রবাসীর পরিবারকে যুবদল নেতা ও তার সহযোগীদের পক্ষ থেকে নিয়মিত হুমকি-ধমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন পরিবারের সদস্যরা। এ কারণে তারা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন দাবি করে বৃহস্পতিবার দুপুরে হবিগঞ্জ প্রেসক্লাব মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলন করেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন প্রবাসী মো. আব্দুল মান্নানের ভাবি নাছিমা আক্তার। তিনি জানান, তারা শায়েস্তাগঞ্জ পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের মহলুল সুনাম এলাকার বাসিন্দা। তার দেবর মো. আব্দুল মান্নানের তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রী রিপা আক্তারের অনৈতিক সম্পর্কের কারণে তাদের পুরো পরিবার বারবার নির্যাতনের শিকার হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, আইনগতভাবে তালাক কার্যকর হওয়ার পরও রিপা আক্তারের পরকীয়া প্রেমিক হিসেবে অভিযুক্ত শায়েস্তাগঞ্জ পৌর যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও শায়েস্তাগঞ্জ পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর আব্দুল জলিল তাদের পরিবারের সম্পদ দখলের চেষ্টা করছেন। তার নেতৃত্বে দুইবার তাদের পরিবারের ওপর হামলা চালানো হয়েছে এবং পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, আব্দুল মান্নান চার বছর দুবাইয়ে কর্মরত ছিলেন। প্রবাসজীবনের কষ্টার্জিত প্রায় ৩০ লাখ টাকা তিনি স্ত্রীর কাছে পাঠান। অভিযোগ অনুযায়ী, রিপা আক্তার ওই অর্থ এবং স্বর্ণালংকার প্রেমিক আব্দুল জলিলের সহযোগিতায় আত্মসাৎ করেন।
নাছিমা আক্তার বলেন, বর্তমানে আব্দুল মান্নান নিঃস্ব অবস্থায় দেশে ফিরে রাজমিস্ত্রীর সহকারী হিসেবে জীবিকা নির্বাহ করছেন। গত ১১ ফেব্রুয়ারি নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে তিনি রিপা আক্তারকে আইনগতভাবে তালাক প্রদান করেন। এরপরও আব্দুল জলিল ও রিপা আক্তারের কারণে তাদের পুরো পরিবার নির্যাতনের শিকার হয়ে চরম দুর্ভোগে রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত যুবদল নেতা আব্দুল জলিলের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এফপি/র