চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলায় গলায় ফাঁস দিয়ে এক বিবাহিত কিশোরীর আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে। নিহতের নাম তাসমিন আক্তার (১৮)। তিনি দোহাজারী পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের চাগাচর চৌধুরী বাড়ির সিরাজুল ইসলামের মেয়ে।
মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) দোহাজারী পৌরসভার চাগাচর চৌধুরী বাড়িতে এ মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে। খবর পেয়ে চন্দনাইশ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করেছে।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, দোহাজারী পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের জামাল মেম্বার বাড়ির মো. ইউসুফের ছেলে মোহাম্মদ আরিফ (২০) এর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কের সূত্র ধরে প্রায় ছয় মাস আগে তাসমিন আক্তারের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই নানা পারিবারিক ও আর্থিক কারণে তাসমিন তার পিত্রালয়েই অবস্থান করছিলেন। তার স্বামী আরিফ এখনো স্ত্রীকে নিজ বাড়িতে তুলে নিতে পারেননি। আরিফ দোহাজারী রেলওয়ে স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় কাঁচা মালের ব্যবসা করেন এবং সেখান থেকে শ্বশুরবাড়িতে যাতায়াত করতেন।
মঙ্গলবার সকাল থেকে আরিফ তার স্ত্রী তাসমিনের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল দিলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। বিষয়টি নিয়ে তিনি শাশুড়িকে অবহিত করলে, তাসমিনের মা মেয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পেরে পার্শ্ববর্তী এক নারীকে ফোন করে তাসমিনের কাছে মোবাইল ফোনটি পৌঁছে দিতে বলেন। ওই নারী তাসমিনকে ডাকাডাকি করতে গিয়ে ঘরের ভেতরে বিমের সঙ্গে রশি পেঁচানো অবস্থায় গলায় ফাঁস লাগিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। পরে বিষয়টি স্থানীয়দের মাধ্যমে পুলিশকে জানানো হয়।
পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে লাশ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে এবং ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়। ঘটনার সময় তাসমিন ঘরে একাই ছিলেন। তার মা নানার বাড়িতে অবস্থান করছিলেন এবং তার বাবা বাড়ির পাশের ক্ষেতে কাজ করছিলেন বলে জানা গেছে।
চন্দনাইশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইলিয়াছ খান (পিপিএম) ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য প্রেরণ করেছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। এবিষয়ে মেয়ে বাবা সিরাজুল ইসলাম থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করেছেন।
এফপি/জেএস