স্বপ্ন ছিল প্রবাসে গিয়ে পরিবারকে স্বচ্ছল করার। কিন্তু সেই স্বপ্নই দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছে মেহেরপুরের এক যুবকের জীবনে। দালালের প্রতারণায় পড়ে সৌদি আরবে গিয়ে কাজ না পেয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন মোতালেব হোসেন। এমনকি হাত-পা বেঁধে আটকে রেখে পরিবারের কাছে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে দালাল চক্রের বিরুদ্ধে।
প্রবাসে গিয়ে পরিবারকে স্বাবলম্বী করার স্বপ্ন নিয়ে সৌদি আরবে পাড়ি জমিয়েছিলেন মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার হিন্দা গ্রামের যুবক মোতালেব হোসেন। কিন্তু দালালের প্রতারণায় পড়ে আজ তিনি মানবেতর জীবনযাপন করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এমনকি কাজ না দিয়ে হাত-পা বেঁধে আটকে রেখে পরিবারের কাছে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের ভিডিও পাঠানোর অভিযোগও করেছে তার পরিবার।
জানা গেছে, গত ৮ আগস্ট ২০২৫ তারিখে হিন্দা গ্রামের কামাল হোসেনের ছেলে মোতালেব হোসেন এলাকার দালাল ফজলুর রহমানের মাধ্যমে ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকার বিনিময়ে সৌদি আরব যান। দীর্ঘদিন প্রবাসে অবস্থান করলেও তাকে কোনো কাজ দেয়নি দালাল চক্র। একপর্যায়ে দালালরা মোতালেবকে হাত-পা বেঁধে ভিডিও ধারণ করে পরিবারের কাছে অতিরিক্ত টাকা দাবি করে।
পরিবারের সদস্যরা বাধ্য হয়ে বিকাশের মাধ্যমে আরও ৪০ হাজার টাকা পাঠালেও দালাল চক্রের টাকা দাবির শেষ হয়নি। অভিযোগ রয়েছে, এখনও বিভিন্ন সময় মোতালেবের পরিবারের কাছে অতিরিক্ত অর্থ দাবি করে আসছে চক্রটি। বিষয়টি নিয়ে দালাল ফজলুল রহমানের কাছে একাধিকবার গেলে কোনো সমাধান মেলেনি। স্থানীয়ভাবে কয়েক দফা সালিশ বৈঠক হলেও তাতে অংশ নেননি অভিযুক্ত দালাল।
মোতালেব হোসেনের বাবা কামাল হোসেন বলেন, আমি বিষয়টি জানতে চাইলে দালাল ফজলুল হক আমাদের প্রাণনাশের হুমকি দেয়। প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েও কোনো কার্যকর সহযোগিতা পাইনি।
মোতালেব হোসেনের মা তানজিলা খাতুন বলেন, আমার ছেলেকে দড়ি দিয়ে বেঁধে রাখা হয়েছে, ঠিকমতো খাবারও দেওয়া হয় না। পুলিশে গেলে উল্টো টাকা দাবি করা হয়েছে। আমরা গরিব বলে কোনো সাহায্য পাইনি।
এলাকাবাসিরা জানান,দালাল চক্রের প্রতারণায় পড়ে মোতালেবের পরিবার আজ সর্বস্বান্ত। তারা দ্রুত মোতালেবকে কাজ দেওয়ার ব্যবস্থা অথবা তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার দাবি জানান।
হিন্দা গ্রামের ইউপি সদস্য নাজমুল হোসেন খোকন জানান, স্থানীয়ভাবে মীমাংসার চেষ্টা করা হয়েছিল। গ্রাম পুলিশ দিয়ে দালাল ফজলুর রহমানকে ডাকা হলেও তিনি সালিশে আসেননি। উল্টো গ্রাম পুলিশকে হুমকি স্বরূপ কথা বলেছেন।
মেহেরপুর গাংনী থানার ওসি উত্তম কুমার দাস বলেন, এখনও পর্যন্ত কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
দালাল চক্রের প্রতারণায় মোতালেবের পরিবার আজ নিঃস্ব। তারা দ্রুত মোতালেবকে কাজ দেওয়ার ব্যবস্থা অথবা নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন।
এফপি/জেএস