Dhaka, Wednesday | 29 July 2026
         
English Edition
   
Epaper | Wednesday | 29 July 2026 | English
শিরোনাম:

পানিতে ডোবা প্রতিরোধে শিশুযত্ন ও সাঁতার প্রশিক্ষণ সম্প্রসারণের তাগিদ

প্রকাশ: বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২৬, ৪:৩৯ পিএম  (ভিজিটর : ৩১)

বাংলাদেশে পানিতে ডুবে শিশু মৃত্যুর হার কমাতে নিরাপদ শিশুযত্ন কেন্দ্র (আঁচল), জীবনরক্ষাকারী সাঁতার এবং প্রাথমিক চিকিৎসা ও সিপিআর প্রশিক্ষণভিত্তিক কার্যক্রম সারা দেশে সম্প্রসারণের আহ্বান জানানো হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এসব উদ্যোগ শুধু শিশুদের জীবন রক্ষায় কার্যকর নয়, একই সঙ্গে নারীর কর্মসংস্থান, যত্ন-অর্থনীতির বিকাশ এবং নারীর ক্ষমতায়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

বিশ্ব পানিতে ডোবা প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে প্রকাশিত বিভিন্ন তথ্য ও গবেষণায় এ চিত্র উঠে এসেছে। এ বছরের প্রতিপাদ্য ‘ইউনিট টু টার্ণ দি টাইড’।

বাংলাদেশ হেলথ অ্যান্ড ইনজুরি সার্ভে ২০২৩-এর তথ্য অনুযায়ী, দেশে প্রতি বছর প্রায় ১৮ হাজার ৬৬৫ জন পানিতে ডুবে মারা যান। এর মধ্যে প্রায় ১৪ হাজার ২৬৯ জনই ১ থেকে ৪ বছর বয়সী শিশু। অধিকাংশ দুর্ঘটনা ঘটে বাড়ির আশপাশের পুকুর, খাল ও অন্যান্য জলাশয়ে।

সেন্টার ফর ইনজুরি প্রিভেনশন অ্যান্ড রিসার্চ, বাংলাদেশ (সিআইপিআরবি) জানায়, দীর্ঘদিনের গবেষণার ভিত্তিতে গড়ে ওঠা আঁচল, জীবনরক্ষাকারী সাঁতার এবং প্রাথমিক চিকিৎসা ও সিপিআর প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পানিতে ডুবে মৃত্যু প্রতিরোধে কার্যকর প্রমাণিত হয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও এ মডেলকে স্বীকৃতি দিয়েছে।

আঁচল কেন্দ্রে ১ থেকে ৫ বছর বয়সী শিশুদের নির্দিষ্ট সময় নিরাপদ পরিবেশে রাখা হয়। প্রতিটি কেন্দ্রে দুইজন প্রশিক্ষিত নারী তত্ত্বাবধায়ক শিশুদের পরিচর্যা, স্বাস্থ্য, পুষ্টি ও প্রারম্ভিক বিকাশসংক্রান্ত কার্যক্রম পরিচালনা করেন। এতে অভিভাবকেরা কর্মব্যস্ত সময়ে শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে নিশ্চিন্ত থাকতে পারেন।

এ ছাড়া ৬ থেকে ১০ বছর বয়সী শিশুদের জীবনরক্ষাকারী সাঁতার শেখানো হয়। প্রশিক্ষণে পানিতে ভেসে থাকা, নিরাপদে সাঁতার কাটা এবং ডুবন্ত ব্যক্তিকে নিরাপদ উপায়ে উদ্ধারের কৌশল শেখানো হয়। পাশাপাশি স্থানীয় নারীদের প্রাথমিক চিকিৎসা ও সিপিআর প্রশিক্ষণ দিয়ে জরুরি পরিস্থিতিতে সেবা দেওয়ার সক্ষমতা তৈরি করা হচ্ছে।

মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ শিশু একাডেমি বাস্তবায়িত আইসিবিসি প্রকল্পের মাধ্যমে এসব কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। প্রকল্পটির প্রথম ধাপ শেষ হয়েছে এবং দ্বিতীয় ধাপের প্রস্তুতি চলছে।

এদিকে, সরকার ২০২৫ সালে জাতীয় পানিতে ডোবা প্রতিরোধ কর্মকৌশল ও কর্মপরিকল্পনা অনুমোদন করেছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এই কর্মপরিকল্পনার কার্যকর বাস্তবায়ন এবং প্রমাণভিত্তিক উদ্যোগগুলোকে জাতীয় পর্যায়ে সম্প্রসারণ করা গেলে শিশু মৃত্যুর হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব হবে। একই সঙ্গে শিশুর প্রারম্ভিক বিকাশ, নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন এবং যত্ন-অর্থনীতির বিকাশেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, পানিতে ডোবা প্রতিরোধে বিনিয়োগ শুধু জীবন রক্ষার উদ্যোগ নয়; এটি নিরাপদ শৈশব, শক্তিশালী পরিবার এবং টেকসই সামাজিক উন্নয়নে বিনিয়োগ।

এফপি/ফ
সর্বশেষ সংবাদ  
সর্বাধিক পঠিত  
YOU MAY ALSO LIKE  
Editor & Publisher: S. M. Mesbah Uddin
Editorial, News and Commercial Offices: Akram Tower, 15/5, Bijoynagar (9th Floor), Ramna, Dhaka-1000
Call: 01713-180024, 01675-383357 & 01840-000044
E-mail: [email protected], [email protected], [email protected]
...
🔝