সরকার গঠনের পাঁচ মাস অতিবাহিত হলেও পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়নে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন বক্তারা।
বুধবার (২৯ জুলাই) জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের ৫ মাস: পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়নের অগ্রগতির মূল্যায়ন’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় তারা এ কথা বলেন।
সভায় টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়ন, আদিবাসী জনগণের সাংবিধানিক ও মানবাধিকার নিশ্চিত করা এবং দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সংকটের শান্তিপূর্ণ সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। তিনি বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে টেকসই শান্তি প্রতিষ্ঠায় রাষ্ট্রকে সংলাপ ও আস্থার পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে।
বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, বর্তমান সরকারের ৩১ দফায় বহুত্ববাদী রাষ্ট্র গঠনের প্রতিশ্রুতি থাকলেও পাঁচ মাসে চুক্তি বাস্তবায়নে দৃশ্যমান পদক্ষেপ দেখা যায়নি। তিনি পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ে সব অংশীজনকে সম্পৃক্ত করতে একটি জাতীয় কমিশন গঠনের দাবি জানান।
এএলআরডির নির্বাহী পরিচালক শামসুল হুদা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি কোনো একক রাজনৈতিক দলের নয়; সব দলের সঙ্গে আলোচনা করেই এটি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। তাই বর্তমান সরকারও চুক্তি বাস্তবায়নে এগিয়ে আসবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
বাংলাদেশ জাসদের সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক প্রধান, সিপিবির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল ক্বাফি রতন এবং বাসদের ফজলুল রশিদ ফিরোজও চুক্তির পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তারা বলেন, দীর্ঘদিনেও চুক্তির মৌলিক ধারাগুলো বাস্তবায়িত না হওয়ায় পার্বত্য অঞ্চলের সংকট ও বৈষম্য রয়ে গেছে।
লিখিত বক্তব্যে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন আন্দোলনের যুগ্ম সমন্বয়কারী জাকির হোসেন বলেন, সরকার গঠনের পাঁচ মাস পেরিয়ে গেলেও চুক্তি বাস্তবায়নে দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নেই। তিনি একজন পাহাড়িকে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক পূর্ণমন্ত্রী নিয়োগ, বাস্তবায়ন কমিটি ও ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন কার্যকর করা এবং আঞ্চলিক পরিষদের সঙ্গে দ্রুত সংলাপের দাবি জানান।
এফপি/র