দিনভর অনিশ্চয়তা ও নানা নাটকীয়তার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে কক্সবাজার থেকে সেন্টমার্টিনের উদ্দেশে ছেড়ে গেছে পর্যটকবাহী জাহাজ ‘এমভি বার আউলিয়া’।
বৃহস্পতিবার সকাল ৭টা ৪০ মিনিটে কক্সবাজার শহরের নুনিয়ারছড়া ঘাট থেকে জাহাজটি যাত্রা শুরু করে। এতে প্রায় ৮০০ পর্যটক রয়েছেন।
বুধবার রাত ১০টার দিকে জাহাজ চলাচলের বিষয়টি নিশ্চিত করেন সেন্টমার্টিনগামী জাহাজ মালিকদের সংগঠন সি ক্রুজ অপারেটর ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক হোসাইন ইসলাম বাহাদুর।
তিনি জানান, জেলা প্রশাসক বৃহস্পতিবার একটি জাহাজ চলাচলের সম্মতি দিয়েছেন। আগে থেকে টিকিট কাটা সব পর্যটক এমভি বার আউলিয়ায় সেন্টমার্টিন যেতে পারবেন। বাকি দুটি জাহাজ শুক্রবার থেকে চলাচল শুরু করবে।
কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল মান্নান বলেন, ইতিমধ্যে অনেক পর্যটক টিকিট সংগ্রহ করেছেন। তাঁদের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে বৃহস্পতিবার একটি জাহাজ চলাচলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এর আগে বুধবার সকাল থেকে জানানো হয়েছিল, প্রয়োজনীয় সব দাপ্তরিক অনুমোদন পাওয়ায় বৃহস্পতিবার থেকে তিনটি জাহাজ সেন্টমার্টিনে চলাচল শুরু করবে। এ ঘোষণার পর জাহাজ কর্তৃপক্ষ টিকিট বিক্রিও শুরু করে। বুধবার সন্ধ্যা সাতটা পর্যন্ত পাঁচ শতাধিক টিকিট বিক্রি হয়েছিল।
তবে সন্ধ্যার দিকে জেলা প্রশাসকের সম্মতি না পাওয়ায় বৃহস্পতিবার জাহাজ চলাচল নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। এতে আগে থেকে টিকিট কাটা পর্যটকেরা বিপাকে পড়েন। পরে রাত ১০টার দিকে একটি জাহাজ চলাচলের সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
জাহাজ মালিকদের সংগঠন সূত্রে জানা গেছে, নৌপরিবহন অধিদপ্তর ও পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমোদন পেয়েছে এমভি বার আউলিয়া, এমভি কর্ণফুলী ও এমভি টেকনাফ নামের তিনটি জাহাজ। এসব জাহাজের মোট যাত্রী ধারণক্ষমতা ২ হাজার ২৯৮ জন। এর মধ্যে এমভি বার আউলিয়ার ধারণক্ষমতা ৮৫০, এমভি কর্ণফুলীর ৭৩২ এবং এমভি টেকনাফের ৭১৬ জন।
নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী, এমভি বার আউলিয়ার সকাল সাতটায়, এমভি কর্ণফুলীর সোয়া সাতটায় এবং এমভি টেকনাফের সোয়া আটটায় কক্সবাজারের নুনিয়ারছড়া ঘাট থেকে যাত্রা করার কথা ছিল। তবে শেষ পর্যন্ত বৃহস্পতিবার সকাল ৭টা ৪০ মিনিটে এমভি বার আউলিয়া সেন্টমার্টিনের উদ্দেশে ছেড়ে যায়।
এফপি/অ