রাজধানীতে আগামী ২১ ও ২২ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে দুই দিনব্যাপী পঞ্চম আদিবাসী খাদ্য ও শস্য মেলা-২০২৬। উন্নয়ন সংগঠন নাগরিক উদ্যোগ ও আদিবাসী সুহৃদদের যৌথ আয়োজনে মিরপুর-১৩-তে অবস্থিত পার্বত্য বৌদ্ধ সংঘ কমপ্লেক্স প্রাঙ্গণে এ মেলা অনুষ্ঠিত হবে।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে রেলী চাকমা সংবাদমাধ্যমকে জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে মেলার স্টল বরাদ্দের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর থেকে বেশ ভালো সাড়া পাওয়া যাচ্ছে। পার্বত্য অঞ্চলের পাশাপাশি সমতলের মান্দি, মণিপুরি, সাঁওতাল ও রাখাইন সম্প্রদায়ের অনেক উদ্যোক্তা ইতোমধ্যে স্টল বুকিং দিয়েছেন। বরাদ্দ দেওয়া স্টলগুলোর মধ্যে আদিবাসী নারী উদ্যোক্তাদের প্রাধান্য রয়েছে।
আয়োজকরা জানান, মেলায় আদিবাসীদের ঐতিহ্যবাহী রন্ধনপ্রণালিতে তৈরি তেল ও মসলামুক্ত বিভিন্ন জনপ্রিয় খাবারের পসরা থাকবে। পাহাড়ের জনপ্রিয় বাঁশের কোড়ল বা ব্যাম্বু শুট, কলাপাতায় রান্না করা বিভিন্ন ধরনের হেবাং এবং জুমের নানা সবজি দিয়ে তৈরি মুখরোচক খাবার পাওয়া যাবে। দর্শনার্থীরা উপভোগ করতে পারবেন পার্বত্য অঞ্চলের জনপ্রিয় খাবার পাজনও।
সমতলের আদিবাসী সম্প্রদায়ের বৈচিত্র্যময় খাবার নিয়ে হাজির হবেন মণিপুরি, গারো ও রাখাইন উদ্যোক্তারা। কালো ও সাদা বিন্নি চালের তৈরি বিভিন্ন ধরনের পিঠা নিয়ে থাকবেন রাখাইন উদ্যোক্তারা। এ ছাড়া বাঙালিদের কাছেও জনপ্রিয় হয়ে ওঠা বিভিন্ন ধরনের মুন্ডি থাকবে মেলার অন্যতম আকর্ষণ।
মেলায় বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে থাকবে বিভিন্ন ধরনের টাটকা ফল দিয়ে তৈরি ঝাল খাবার, যা লাকসো নামে পরিচিত। মণিপুরি খাবারের মধ্যে পাওয়া যাবে ডাল দিয়ে তৈরি বিশেষ পদ 'উতি' এবং বিন্নি চাল ও দুধ দিয়ে তৈরি ক্ষীর 'সাঙ্গোম'। পাশাপাশি থাকবে বিভিন্ন জাতের বিন্নি চাল ও পাহাড়ি মধু।
এ ছাড়া জুমের বিষমুক্ত শাকসবজি, পাহাড়ি কলা, মধুপুরের আনারস, পেঁপেসহ বিভিন্ন ধরনের ফলমূল, বৈচিত্র্যময় কৃষিপণ্য ও শুঁটকির পসরা সাজিয়ে বসবেন উদ্যোক্তারা। মেলায় পাওয়া যাবে কাপ্তাই হ্রদের মাছও।
মেলার অন্যতম আয়োজক নাগরিক উদ্যোগের প্রধান নির্বাহী জানান, শহুরে নাগরিকদের সঙ্গে আদিবাসীদের সমৃদ্ধ জুম কৃষির বিভিন্ন শস্য এবং বৈচিত্র্যময় খাবারের পরিচয় করিয়ে দিতেই এ আয়োজন। একই সঙ্গে আদিবাসী উদ্যোক্তারা যাতে তাঁদের পণ্য আরও বেশি ভোক্তার কাছে পৌঁছে দিতে পারেন, সেই সুযোগ তৈরি করাও মেলার অন্যতম উদ্দেশ্য। এ বছর টানা পঞ্চমবারের মতো আয়োজিত হচ্ছে আদিবাসী খাদ্য ও শস্য মেলা। ইতোমধ্যে রাজধানীবাসীর কাছে মেলাটি বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছে।
আয়োজকদের অন্যতম মেইনথিন প্রমীলা বলেন, বাংলাদেশের বহুত্ববাদী সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ আদিবাসীদের বৈচিত্র্যময় খাদ্যাভ্যাস। এই বৈচিত্র্যময় খাবারের সঙ্গে বাঙালি জনগোষ্ঠীর খাদ্যাভ্যাসের মেলবন্ধন ঘটানোই মেলার অন্যতম উদ্দেশ্য। পাশাপাশি আদিবাসীদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে চর্চিত বিষমুক্ত কৃষিপণ্য সম্পর্কে নগরবাসীকে পরিচিত করিয়ে দেওয়াও এ আয়োজনের একটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য।
আয়োজকরা আশা করছেন, সাপ্তাহিক ছুটির দিনে মেলা অনুষ্ঠিত হওয়ায় এতে রাজধানীবাসীর ব্যাপক সমাগম ঘটবে। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত মেলা দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। মেলার উদ্বোধন করবেন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ও মুক্তিযোদ্ধা আবু সাঈদ খান।
প্রতিদিন সন্ধ্যায় মেলায় অনুষ্ঠিত হবে আদিবাসী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এতে সংগীত পরিবেশন করবেন বাংলাদেশ আইডলখ্যাত মং, পাহাড়ের জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী বর্ষা চাকমা, বুলু তঞ্চঙ্গ্যা এবং গারো সম্প্রদায়ের উদীয়মান শিল্পী মার্কুস চিসিম। এ ছাড়া পাহাড় ও সমতলের আদিবাসীদের ঐতিহ্যবাহী নৃত্য পরিবেশনা থাকবে।
মিরপুর-১০ মেট্রোরেল স্টেশন থেকে রিকশায় মাত্র পাঁচ মিনিটে মেলার ভেন্যুতে পৌঁছানো যাবে। পার্বত্য বৌদ্ধ সংঘ কমপ্লেক্সের পাশেই রয়েছে স্কলাসটিকা ও এসওএস শিশুপল্লি। এর বিপরীত পাশে অবস্থিত বিআরটিএ কার্যালয়।
এফপি/অ