নগরবাসীর চাহিদা অনুযায়ী খুলনা মহানগরীকে একটি সুন্দর ও বাসযোগ্য শহরে পরিণত করতে চান বলে জানিয়েছেন খুলনা সিটি করপোরেশনের (কেসিসি) প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু। তিনি বলেন, যত্রতত্র আবর্জনা থাকবে না, মশা থাকবে না, মশাবাহিত রোগ থাকবে না, সড়কগুলো যানজট ও দখলমুক্ত থাকবে—এমন একটি উন্মুক্ত পরিবেশে নগরবাসী নিরাপদে বসবাস করতে চান। সেই প্রত্যাশা সামনে রেখেই আমরা কাজ শুরু করেছি।
শনিবার সকালে নগরীর গোবরচাকা তালীমুল মিল্লাত রহমাতিয়া কামিল মাদরাসাসংলগ্ন একটি পুকুরের কচুরিপানা অপসারণ কার্যক্রম পরিদর্শনকালে তিনি এসব কথা বলেন। প্রতি শনিবার বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযানের অংশ হিসেবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কারিগরি সহযোগিতায় কেসিসি ও হেলদি সিটি ইনিশিয়েটিভ প্রকল্প যৌথভাবে পুকুরটির কচুরিপানা অপসারণ করে সেটি ব্যবহার উপযোগী করে তুলছে।
প্রধানমন্ত্রী নগরীকে বাসযোগ্য করার নির্দেশনা দিয়েছেন উল্লেখ করে প্রশাসক বলেন, শহরে ছায়াশীতল পরিবেশ নিশ্চিত করতে বর্ষা মৌসুমে নগরীতে ২৫ হাজার গাছের চারা রোপণ করা হয়েছে। এসব গাছের পরিচর্যা ও রক্ষণাবেক্ষণও করা হচ্ছে। নগরায়ণের কারণে অনেক পুকুর হারিয়ে গেছে। বর্তমানে বিদ্যমান পুকুরগুলো ব্যবহার উপযোগী করা হচ্ছে। পুকুরটিতে যাতে পুনরায় কচুরিপানা জন্মাতে না পারে, সে জন্য কেসিসির উদ্যোগের পাশাপাশি স্থানীয় জনগণকেও এগিয়ে আসতে হবে।
এ সময় কেসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিব আহমেদ, সচিব মো. রেজা রশীদ, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা মো. আনিসুর রহমান, পরিবেশ অধিদপ্তর খুলনার উপপরিচালক মিহির লাল সরদার, পরিবেশবাদী সংগঠন বেলার বিভাগীয় সমন্বয়কারী মাহফুজুর রহমান মুকুল, হেলদি সিটি ইনিশিয়েটিভ প্রকল্পের প্রোগ্রাম অফিসার আসিফ আহমেদ, বিডি-কিনের সদস্য, কেসিসির ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
পরে কেসিসি প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু নগরীর রূপসা মোড় থেকে নতুন বাজার মোড় পর্যন্ত পরিচালিত পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিদর্শন করেন। বিশ্ব নগর দিবস পালন এবং ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে কেসিসির সহযোগিতায় স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা সিরাক-বাংলাদেশ এ পরিচ্ছন্নতা ও জনসচেতনতামূলক ক্যাম্পেইনের আয়োজন করে।
প্রশাসক সিরাক-বাংলাদেশের এ উদ্যোগকে সাধুবাদ জানান। তিনি বলেন, সংস্থাটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তরুণেরা এ অভিযানে যুক্ত হওয়ায় অন্যরাও অনুপ্রাণিত হবেন।
এ সময় কেসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিব আহমেদ, সচিব মো. রেজা রশীদ, সমাজসেবক ইউসুফ হারুন আব্দুল্লাহ এবং সিরাক-বাংলাদেশের ভলান্টিয়ার তানভীর হাসান অর্নব, মো. মুজাহিদুর রহমান, আহমেদ আকাশ, তাহসিন হাসান অনিক, মো. মিনহাজুল আবেদীন, মো. আমিরুল ইসলাম, মোহাম্মদ রহমাতুল্লাহ, ফয়সাল ইমরান, সুদীপ্ত রায়, নাজমীন খানম ছোঁয়া, ফারিহা ঝিলাম, হালিমাতুস সাদিয়া সুখি, শামিমা সুলতানা, স্নেহা আফরিন বর্ষা, ইভানা হক ইভা, সৌরভ ঘোষ, আয়শা ছিদ্দিকা আনহা, সুমাইয়া শিমু, মুনতাসির হাসান, সাদিয়া আফরিন ছবি, আব্দুল্লাহ আল কাফি মৃদুল, মোসা. রানী খাতুন, খাদিজা ইয়াসমিন স্নিগ্ধা ও ফারজানা যুথি উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা পরিচ্ছন্নতা অভিযানে সরাসরি অংশ নেন।
অভিযানটি সমন্বয় করেন সিরাক-বাংলাদেশের নেটওয়ার্ক অফিসার মো. কামরান মিয়া ও প্রজেক্ট অফিসার সুমাইয়া রহমান।
এফপি/মিব