ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পে নতুন করে ঋণ বিতরণ ও পুনঃঅর্থায়নে আগ্রহ প্রকাশ করেছে চীনের ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড কমার্শিয়াল ব্যাংক অব চায়না (আইসিবিসি)। প্রকল্পের বিদ্যমান আর্থিক ও আইনি জটিলতা সমাধান হলে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে পুনঃঅর্থায়নের বিষয়ে ইতিবাচক অগ্রগতি হতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেছে ব্যাংকটির প্রতিনিধিদল।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সেতু বিভাগের সচিব ও বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ আবদুর রউফের সঙ্গে আইসিবিসির প্রতিনিধিদলের এক বৈঠকে এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠকে প্রকল্পের চলমান নির্মাণকাজ, আর্থিক ঘাটতি, ঋণ বিতরণ পুনরায় শুরু এবং ভবিষ্যৎ অর্থায়নের সম্ভাবনা পর্যালোচনা করা হয়। পাশাপাশি প্রকল্পের আর্থিক কাঠামো পুনর্বিন্যাস ও দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক সক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়।
সেতু বিভাগের সচিব বৈঠকে বলেন, বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক বর্তমানে অত্যন্ত সুদৃঢ়। ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো প্রকল্পে চীনা বিনিয়োগ দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
বৈঠকে আইসিবিসি ব্যাংকের গ্লোবাল ফাইন্যান্স বিভাগের অবকাঠামো ও উৎপাদন খাতবিষয়ক প্রতিনিধি চার্লি ঝাও (Charley Zhao) অংশ নেন। এ সময় বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের পরিচালক (প্রশাসন) ও প্রকল্প মনিটরিং টিমের প্রধান আলতাফ হোসেন সেখ, প্রধান প্রকৌশলী মো. আবুল হোসেন, প্রকল্প পরিচালক মো. গোলাম মর্তুজা, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ড. মাহমুদুর রহমান এবং প্রকল্প বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠান ফার্স্ট ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে (এফডিইই) কোম্পানি লিমিটেডের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
শেয়ার মালিকানা বিরোধে আটকে ছিল ঋণ বিতরণ
বৈঠকে প্রকল্পের অর্থায়ন নিয়ে সৃষ্ট জটিলতার বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পায়। প্রকল্পের বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে শেয়ার মালিকানা নিয়ে বিরোধের কারণে ঋণ বিতরণে স্থবিরতা তৈরি হয়। পরবর্তী সময়ে সিঙ্গাপুর ইন্টারন্যাশনাল আরবিট্রেশন সেন্টারের (এসআইএসি) সিদ্ধান্তের পর বিরোধ নিষ্পত্তির পথে অগ্রগতি হয়।
আইসিবিসির প্রতিনিধিরা জানান, বিদ্যমান আইনি জটিলতা কাটিয়ে ওঠার পর প্রকল্পে নতুন করে ঋণ বিতরণ এবং পুনঃঅর্থায়নের বিষয়টি গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করা হচ্ছে।
এ ক্ষেত্রে মার্কিন ডলারের পরিবর্তে চীনা মুদ্রা রেনমিনবি (আরএমবি) ব্যবহার করে ঋণ দেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে। বৈঠকে ডলারের বিনিময় হারের ওঠানামা, টাকার অবমূল্যায়ন এবং আগের ঋণচুক্তির শর্তের সঙ্গে বর্তমান আর্থিক পরিস্থিতির পার্থক্য নিয়ে আলোচনা হয়।
নতুন সংযোগে বাড়তে পারে টোল আয়
বৈঠকে ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের ভবিষ্যৎ সম্প্রসারণ ও আর্থিক সক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়। সেতু বিভাগের সচিব জানান, ভবিষ্যতে ঢাকা-আশুলিয়া এক্সপ্রেসওয়ের সঙ্গে ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের সংযোগ স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।
এ ছাড়া প্রকল্পের আওতায় আরও চারটি নতুন সংযোগের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা করার বিষয়টি আলোচনায় আসে। সম্ভাব্য সংযোগগুলোর মধ্যে ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ে, পূর্বাচল এক্সপ্রেসওয়ে এবং রামপুরা-বনশ্রী-আফতাবনগর এলাকার সংযোগের কথা উল্লেখ করা হয়।
এসব সংযোগ বাস্তবায়িত হলে এক্সপ্রেসওয়েতে যানবাহনের চলাচল বাড়ার পাশাপাশি টোল আয়ও বৃদ্ধি পেতে পারে। এতে প্রকল্পটির আর্থিক কার্যকারিতা ও দীর্ঘমেয়াদি টেকসই সক্ষমতা বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
বৈঠকে প্রকল্পের অবশিষ্ট নির্মাণকাজ শেষ করতে প্রয়োজনীয় অর্থায়ন দ্রুত নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। সংশ্লিষ্ট আর্থিক ও কাঠামোগত জটিলতা সমাধান করা গেলে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে পুনঃঅর্থায়নের বিষয়ে ইতিবাচক অগ্রগতি হতে পারে বলে আশাবাদ জানায় আইসিবিসির প্রতিনিধিদল।
এফপি/মিব