Dhaka, Monday | 2 November 2026
         
English Edition
   
Epaper | Monday | 2 November 2026 | English
শিরোনাম:

শিক্ষার্থীদের সচেতনতাই পারে সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে: চসিক প্রশাসক

প্রকাশ: সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬, ৩:৩৬ পিএম  (ভিজিটর : ১২)

সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে শিক্ষার্থীদের সচেতনতা বৃদ্ধি, ট্রাফিক আইন মেনে চলা এবং সামাজিক দায়িত্ববোধ জাগ্রত করার আহ্বান জানিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মাননীয় প্রশাসক ডা. শাহাদাত হোসেন। তিনি বলেন, সামান্য সচেতনতা ও সতর্কতা অনেক মানুষের জীবন বাঁচাতে পারে। নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে নিজের পাশাপাশি অন্যের নিরাপত্তার প্রতিও সবাইকে দায়িত্বশীল হতে হবে।

সোমবার (২ নভেম্বর) ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ চট্টগ্রাম মহানগর কমিটির আয়োজনে স্কুল ও কলেজ শিক্ষার্থীদের রচনা প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী ও শিক্ষার্থী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। নগরীর আইয়ুব বিবি সিটি কর্পোরেশন স্কুল অ্যান্ড কলেজ অডিটোরিয়াম প্রাঙ্গণে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

ডায়মন্ড সিমেন্ট লিমিটেডের চেয়ারম্যান আজিম আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রধান শিক্ষা কর্মকর্তা ড. কিসিঞ্জার চাকমা, কর্ণফুলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রিদুয়ানুল ইসলাম, কর্ণফুলী থানার অফিসার ইনচার্জ নুর মোহাম্মদ, আইয়ুব বিবি সিটি কর্পোরেশন স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ মোহাম্মদ মাহফুজুল রহমান এবং নিরাপদ সড়ক চাই চট্টগ্রাম মহানগর কমিটির সাধারণ সম্পাদক শফিক আহমেদ সাজীব।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, অনুষ্ঠানস্থলের পাশেই রয়েছে ব্যস্ততম চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক। বিশেষ করে মইজ্জ্যারটেক এলাকায় প্রায়ই সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে। তাই শিক্ষার্থীদের রাস্তা পারাপারের সময় সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। ডান-বাম ভালোভাবে দেখে এবং যানবাহনের গতিবিধি বুঝে নিরাপদ স্থানে রাস্তা পার হতে হবে। ইসলামে রাস্তার হক আদায়ের কথা বলা হয়েছে। সড়ক ব্যবহারের ক্ষেত্রেও প্রত্যেক নাগরিকের কিছু দায়িত্ব ও কর্তব্য রয়েছে।

তিনি বলেন, ফুটপাত পথচারীদের চলাচলের জন্য। কেউ ফুটপাত দখল করে মানুষের চলাচলে বাধা সৃষ্টি করলে তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে হবে। রাস্তায় কোনো প্রতিবন্ধকতা কিংবা ক্ষতিকর বস্তু পড়ে থাকতে দেখলে তা যথাস্থানে সরিয়ে রাখতে হবে অথবা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে। অন্যের চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি করে এমন কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সবাইকে সচেতন হতে হবে।

শিক্ষার্থীদের অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী হওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রশাসক বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে শিক্ষার্থীরা অন্যায়ের বিরুদ্ধে রাজপথে নেমে প্রতিবাদ করেছিল। সেই সাহস ও দায়িত্ববোধ সমাজের প্রতিটি অন্যায়ের বিরুদ্ধেও কাজে লাগাতে হবে। কোথাও ইভটিজিং, কিশোর গ্যাং, চাঁদাবাজি কিংবা সমাজবিরোধী কর্মকাণ্ড দেখলে দায়িত্বশীল ও আইনসম্মতভাবে প্রতিবাদ করতে হবে। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সহযোগিতা করতে হবে। সম্মিলিত উদ্যোগ ছাড়া কোনো সামাজিক সমস্যা সমাধান করা সম্ভব নয়।

নগরীর পরিচ্ছন্নতা ও ডেঙ্গু প্রতিরোধে নাগরিক দায়িত্বের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, আমরা চট্টগ্রামকে ক্লিন, গ্রিন, সেফ ও স্মার্ট সিটি হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। এ লক্ষ্য অর্জনে সিটি কর্পোরেশনের পাশাপাশি নগরবাসীকেও দায়িত্বশীল হতে হবে। রাস্তায় পড়ে থাকা ডাবের খোসায় বৃষ্টির পানি জমে এডিস মশার প্রজনন হতে পারে। আবার কলার খোসায় পিছলে পথচারী দুর্ঘটনার শিকার হতে পারেন। তাই যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা না ফেলে নির্দিষ্ট স্থানে ফেলতে হবে। ছোট ছোট ভালো কাজের মধ্য দিয়েই একটি পরিচ্ছন্ন ও মানবিক সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।

সড়ক দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ হিসেবে মোবাইল ফোনের অসতর্ক ব্যবহার উল্লেখ করে প্রশাসক বলেন, অনেক শিক্ষার্থী রাস্তা পার হওয়ার সময় মোবাইল ফোনে কথা বলে কিংবা ভিডিও দেখে। আবার অনেকে দলবেঁধে গল্প করতে করতে রাস্তা পার হয়। এতে আশপাশের যানবাহনের প্রতি মনোযোগ থাকে না এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেড়ে যায়। তাই সড়কে চলাচলের সময় মোবাইল ফোন ব্যবহার থেকে বিরত থাকতে হবে এবং চারপাশের পরিবেশ সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। একই সঙ্গে যানবাহন চালকদেরও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে গাড়ি চালাতে হবে।

নগরীর সড়ক নিরাপত্তা অবকাঠামো উন্নয়নে সিটি কর্পোরেশনের বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে ফুটওভারব্রিজ ও জেব্রা ক্রসিংয়ের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। নগরীর প্রায় ২৮টি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা চালুর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে আগামী এক মাসের মধ্যে দুটি স্থানে এ ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ রয়েছে। চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় করে সিটি কর্পোরেশন এ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে এবং এর অর্থায়ন করছে সিটি কর্পোরেশন।

তিনি আরও জানান, নগরীতে ৩৮টি ফুটওভারব্রিজ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ২১টির কাজ চলমান এবং অন্যগুলোর কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। পাশাপাশি জেব্রা ক্রসিং স্থাপন এবং রেলক্রসিং এলাকায় যানজট ও দুর্ঘটনা কমাতে ওভারপাস নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে।

নৈতিক শিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরে ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, মানুষ সৃষ্টির সেরা জীব। মহান আল্লাহ মানুষকে বিবেক, বুদ্ধি ও জ্ঞান দিয়েছেন। তাই প্রতিটি ক্ষেত্রে বিবেক-বুদ্ধি প্রয়োগ করে দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে। শুধু পাঠ্যবইয়ের শিক্ষা নয়, বাস্তব জীবনের নৈতিক শিক্ষা, মানবিক মূল্যবোধ ও সামাজিক দায়িত্ববোধ অর্জন করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা আলোকিত মানুষ হিসেবে গড়ে উঠবে এবং একটি সুন্দর ও নৈতিক সমাজ প্রতিষ্ঠা সম্ভব হবে।

অনুষ্ঠানে রচনা প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিক্ষার্থীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। বক্তারা নিরাপদ সড়ক প্রতিষ্ঠায় শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক, চালক ও সাধারণ জনগণকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

এফপি/অ
সর্বশেষ সংবাদ  
সর্বাধিক পঠিত  
YOU MAY ALSO LIKE  
Editor & Publisher: S. M. Mesbah Uddin
Editorial, News and Commercial Offices: Akram Tower, 15/5, Bijoynagar (9th Floor), Ramna, Dhaka-1000
Call: 01713-180024, 01675-383357 & 01840-000044
E-mail: [email protected], [email protected], [email protected]
...
🔝