কক্সবাজারের উখিয়ার পর্যটনকেন্দ্র ইনানীতে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (কউক) অনুমোদন ছাড়াই নির্মাণাধীন পাঁচতলা একটি ভবনে অভিযান শুরু করেছে কউক ও উপজেলা প্রশাসন। সোমবার (২৬ অক্টোবর) সী-পাল হোটেলের দক্ষিণ পাশে অবস্থিত ভবনটিতে এ অভিযান শুরু হয়।
উখিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আবু আব্দুল্লাহ জানান, ভবনটি এসএস এন্টারপ্রাইজের মালিকানাধীন। প্রায় এক বছর আগে ভবনটির নির্মাণকাজ শুরু হয়। বর্তমানে সেটির নির্মাণকাজ চলমান রয়েছে। ভবনটি হোটেল বা বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানা গেলেও এর চূড়ান্ত ব্যবহার সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ভবনটি নির্মাণের আগে কউকের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় নকশার অনুমোদন ও নির্মাণের অনুমতি নেওয়া হয়নি। এ কারণে ভবনটির নির্মাণকাজ পরিদর্শন, অনুমোদন সংক্রান্ত নথিপত্র যাচাই এবং নির্মাণবিধি লঙ্ঘন করে নির্মিত অংশ চিহ্নিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
অভিযানে কউকের অথরাইজড অফিসার ফজলে রাব্বি, কউকের সচিব (উপসচিব) সানজিদা বেগমসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত রয়েছেন। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে পুলিশ ও আনসার সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে। এ ছাড়া অভিযানে সহযোগিতার জন্য ফায়ার সার্ভিস ও সি রিসোর্স বিভাগের (এসআরবি) সদস্যরাও রয়েছেন।
কউকের কর্মকর্তারা জানান, ভবনটির অনুমোদ নসংক্রান্ত কাগজপত্র যাচাইয়ের পাশাপাশি অনুমোদিত নকশার সঙ্গে নির্মাণকাজের সামঞ্জস্য পরীক্ষা করা হচ্ছে। পরিদর্শন শেষে ভবনটির কোন কোন অংশ অপসারণ করা হবে, তা নির্ধারণ করা হবে।
এ বিষয়ে কউকের অথরাইজড অফিসার ফজলে রাব্বি বলেন, “বর্তমানে আমি ঘটনাস্থলে রয়েছি। অভিযান শেষ হলে বিস্তারিত বলতে পারব।”
সম্প্রতি উখিয়ার জালিয়াপালং ইউনিয়নের পাটুয়ার টেকে টুপটুপ রেস্তোরাঁয় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১০ জনের মৃত্যু হয়। ওই ঘটনার পর পর্যটন এলাকার হোটেল, রিসোর্ট ও অন্যান্য স্থাপনার নিরাপত্তা, নির্মাণবিধি অনুসরণ এবং অনুমোদন সংক্রান্ত বিষয়গুলো নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
কক্সবাজার থেকে টেকনাফ পর্যন্ত প্রায় ৮০ কিলোমিটার দীর্ঘ মেরিন ড্রাইভ সড়কের দুই পাশে গড়ে উঠেছে অসংখ্য হোটেল ও রিসোর্ট। এসব স্থাপনার নির্মাণ অনুমোদন, বিধিমালা অনুসরণ এবং অগ্নি নিরাপত্তাসহ সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়েও গুরুত্ব দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।
এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ভবনটিতে অভিযান চলছিল। অভিযান শেষে ভবনটির কতটুকু অংশ অপসারণ করা হয়েছে এবং মালিকপক্ষের বিরুদ্ধে কোনো আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না, তা জানা যায়নি।
এফপি/মিব