প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী নদীভাঙন রোধে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার নদীতীরবর্তী এলাকার বাসিন্দারা। আগামী বর্ষা মৌসুমের আগেই স্থায়ী প্রতিরোধব্যবস্থা গড়ে তোলা না হলে নলচিরা ইউনিয়নসহ দ্বীপের বিস্তীর্ণ জনপদ নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তাঁরা।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) বিকেলে উপজেলার নলচিরা ইউনিয়নের তুফানিয়া গ্রামের নদীতীরে আয়োজিত এক মানববন্ধন থেকে এ দাবি জানানো হয়। এতে ইউনিয়নের নয়টি গ্রামের সহস্রাধিক নারী-পুরুষ অংশ নেন।
মানববন্ধনে স্থানীয় বাসিন্দা শাখাওয়াত হোসেন বলেন, গত জাতীয় নির্বাচনের আগে একটি রাজনৈতিক সভায় ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান হাতিয়ার নদীভাঙন রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। সেই প্রতিশ্রুতিতে নদীতীরের মানুষ আশাবাদী হয়েছিলেন। এখন তাঁরা এর বাস্তবায়ন দেখতে চান।
তিনি আরও বলেন, নদীভাঙনের কবল থেকে ঘরবাড়ি ও বসতভিটা রক্ষায় দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। শুধু আশ্বাস নয়, নদীতীরের মানুষ এখন দৃশ্যমান পদক্ষেপ চান।
স্থানীয় বাসিন্দা সাইফুল পাটোয়ারী বলেন, মেঘনার অব্যাহত ভাঙনে হাতিয়ার বিস্তীর্ণ উপকূলীয় এলাকা হুমকির মুখে পড়েছে। বিশেষ করে উপজেলার উত্তরাঞ্চলের নলচিরা ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি গ্রামের মানুষ প্রতিনিয়ত ভাঙনের আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। নদী ক্রমেই লোকালয়ের দিকে এগিয়ে আসায় বসতবাড়ি, ফসলি জমি ও দীর্ঘদিনের বসতি হারানোর আশঙ্কা বাড়ছে।
তিনি বলেন, এখনই নদীভাঙন রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে হাতিয়ার একটি বিশাল অংশ মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, নদীভাঙন শুধু জমি বা ঘরবাড়ি হারানোর বিষয় নয়; এর সঙ্গে মানুষের জীবিকা, নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ জড়িয়ে রয়েছে। নদীগর্ভে বসতভিটা বিলীন হলে অনেক পরিবার নিঃস্ব হয়ে পড়ে। আশ্রয়ের সন্ধানে অন্যত্র চলে যেতে বাধ্য হয় তারা। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয় স্থানীয় মানুষের জীবন-জীবিকা ও সামাজিক স্থিতিশীলতা।
বক্তারা আরও বলেন, বর্ষা মৌসুমে নদীর প্রবল স্রোত ও ঢেউয়ের আঘাতে ভাঙনের তীব্রতা বেড়ে যায়। তাই পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হওয়ার আগেই ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো চিহ্নিত করে স্থায়ী প্রতিরোধব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। অন্যথায় আগামী বর্ষায় নলচিরা ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
মানববন্ধন থেকে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের পাশাপাশি নদীভাঙন রোধে দ্রুত টেকসই প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়নের দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে নদীতীরবর্তী এলাকার মানুষের জানমাল, বসতভিটা ও ফসলি জমি রক্ষায় সরকারকে জরুরি ভিত্তিতে উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান অংশগ্রহণকারীরা।
এ সময় নদীভাঙনের ঝুঁকি থেকে জনপদ রক্ষার দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন মানববন্ধনে অংশ নেওয়া নারী-পুরুষেরা।
এফপি/মিব