কক্সবাজার শহরের গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক স্থাপনাগুলোর কাছেই একটি বহুতল ভবনের ফ্ল্যাট থেকে তিন লাখ ইয়াবা সদৃশ ট্যাবলেট উদ্ধারের কথা জানিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় তিন যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, ফ্ল্যাটটি ইয়াবা মজুত ও পাচারের কাজে ব্যবহার করা হতো।শহরের বাহারছড়া এলাকার নিউ সার্কিট হাউস রোডে অবস্থিত কোরাল রিপ পূর্বিতা সুলতান ভিলার নবম তলার ৮/এ নম্বর ফ্ল্যাটে সোমবার (১৯ অক্টোবর) রাত আড়াইটার দিকে অভিযান শুরু হয়। ভোর ৪টা পর্যন্ত অভিযান চলে। ভবনটি পুলিশ সুপারের কার্যালয় ও কক্সবাজার প্রেসক্লাবের ঠিক সামনেই অবস্থিত।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন শরীয়তপুরের আরমান বয়াতী (২৭), পিরোজপুরের মো. শামীম (৩০) এবং ভোলার মো. রাকিব (২৫)।
কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মুহাম্মদ আলী জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশের তিনটি বিশেষ দল ফ্ল্যাটটিতে অভিযান চালায়। তল্লাশির একপর্যায়ে শয়নকক্ষের একটি ক্যাবিনেটের ভেতরে রাখা দুটি কালো ট্রাভেল ব্যাগ থেকে ৩০টি প্যাকেট উদ্ধার করা হয়। এসব প্যাকেটে তিন লাখ ইয়াবা সদৃশ ট্যাবলেট পাওয়া যায়। এ সময় তিনটি মুঠোফোনও জব্দ করা হয়।
ওসি জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা দাবি করেছেন, টেকনাফ সীমান্ত এলাকা থেকে সংগ্রহ করা ইয়াবাগুলো ঢাকার কেরানীগঞ্জের মো. রাহাদ হোসেন (২৬) নামের এক ব্যক্তির কাছে পাঠানোর উদ্দেশ্যে ফ্ল্যাটটিতে মজুত করা হয়েছিল। ফ্ল্যাটটি রাহাদের নামে ভাড়া নেওয়া হয়েছিল বলে পুলিশ জানতে পেরেছে। তবে তিনি পলাতক রয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
গ্রেপ্তার আরমান সাংবাদিকদের কাছে দাবি করেন, এর আগে দুই লাখ পিস করে ১০টি চালানে মোট ২০ লাখ পিস ইয়াবা রাহাদের কাছে পাঠানো হয়েছে। তাঁর এই বক্তব্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।
পুলিশ জানিয়েছে, ফ্ল্যাটটিতে কারা যাতায়াত করতেন, তা শনাক্ত করতে ভবনটির গত এক মাসের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। ফুটেজ পর্যালোচনার মাধ্যমে সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের শনাক্ত করার পাশাপাশি ইয়াবা মজুত ও পাচারের সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তার তিন যুবক ও পলাতক রাহাদ পরস্পরের যোগসাজশে দীর্ঘদিন ধরে ফ্ল্যাটটি ইয়াবা মজুত ও কেনাবেচার কাজে ব্যবহার করে আসছিলেন। এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
পুলিশ সুপারের কার্যালয় ও প্রেসক্লাবের ঠিক সামনের একটি ভবনে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা মজুতের খবর ছড়িয়ে পড়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সচেতন মহলের প্রতিনিধিরা।
তাঁদের মতে, গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক স্থাপনার কাছাকাছি এমন একটি ভবনে মাদক মজুতের অভিযোগ মাদক কারবারিদের বেপরোয়া তৎপরতার বিষয়টি সামনে এনেছে। এ ধরনের অপরাধী চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
অভিযান চালিয়ে ইয়াবা উদ্ধারের জন্য পুলিশকে ধন্যবাদ জানিয়ে তাঁরা বলেন, শহরে আরও মাদক কারবারি চক্র সক্রিয় থাকতে পারে। এসব চক্র শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে নিয়মিত অভিযান ও গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা প্রয়োজন।
কক্সবাজার প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক মমতাজ উদ্দিন বাহারী বলেন, শহরের অভিজাত আবাসিক ভবনগুলোতে বড় মাদক কারবারিদের বসবাসের অভিযোগ রয়েছে। বেশি ভাড়া এবং ভাড়াটিয়াদের পরিচয় সম্পর্কে যথাযথ খোঁজখবর না রাখার সুযোগে এসব ভবন মাদক মজুত ও পাচারের কাজে ব্যবহৃত হতে পারে।
তিনি আরও বলেন, মাদক কারবারের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন পর্যায়ের সদস্য এবং সাংবাদিকদের কেউ কেউ জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগ তদন্ত করে জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা উচিত।
কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এএনএম সাজেদুর রহমান বলেন, মাদক ও অপরাধ দমনে পুলিশ ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করছে। এ ধরনের অপরাধ প্রতিরোধে পুলিশ সচেষ্টভাবে কাজ করছে বলে জানান তিনি।
এফপি/মিব