Dhaka, Wednesday | 14 October 2026
         
English Edition
   
Epaper | Wednesday | 14 October 2026 | English
শিরোনাম:

সৌদির রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানিতে হুথিদের হামলা

প্রকাশ: বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:৩৫ এএম  (ভিজিটর : ১৮)

সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলীয় শহর দহরানে রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি আরামকোর একটি প্রশাসনিক ভবনে হামলা চালিয়েছে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা। সানার একটি তেল স্থাপনায় সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের বিমান হামলার কয়েক ঘণ্টার মাথায় এ ঘটনা ঘটে। পাল্টাপাল্টি হামলা ও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে।

সৌদি সরকারি বার্তা সংস্থা এসপিএকে দেওয়া এক বিবৃতিতে দেশটির জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, মঙ্গলবারের হামলায় সৃষ্ট আগুন দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনে কর্তৃপক্ষ। এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

মঙ্গলবার দিনের শুরুতে হুথিদের মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি এক সতর্কবার্তায় সৌদি আরবের তেল স্থাপনাগুলোকে ‘বৈধ লক্ষ্যবস্তু’ হিসেবে উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে এসব স্থাপনার আশপাশে থাকা কর্মচারী ও বেসামরিক নাগরিকদের সরে যাওয়ার আহ্বান জানান তিনি। এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই দহরানে আরামকোর প্রশাসনিক ভবনে হামলার ঘটনা ঘটে।

এর আগে ইয়েমেনের হুথি নিয়ন্ত্রিত রাজধানী সানার আল-সাবাহ কেন্দ্রীয় তেল স্টেশন থেকে সাধারণ মানুষকে সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট। ওই নির্দেশের প্রতিক্রিয়ায় হুথিরা পাল্টা হামলার হুঁশিয়ারি দেয়।

হুথি মুখপাত্র জানান, সানায় যেকোনো ধরনের বিমান হামলা চালানো হলে সৌদি রাজধানী রিয়াদে এর ‘কঠোর ও বেদনাদায়ক’ জবাব দেওয়া হবে।

এদিকে সৌদি সরকারি বার্তা সংস্থা এসপিএ জানিয়েছে, রিয়াদ অভিমুখে হুথিদের ছোড়া বেশ কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র মাঝআকাশেই প্রতিহত করে ধ্বংস করেছে সৌদি আরব। সৌদি সিভিল ডিফেন্সের মুখপাত্রের বরাত দিয়ে সংস্থাটি জানায়, প্রতিহত করা দুটি ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ নিচে পড়ে চারজন আহত হয়েছেন। এ ছাড়া ১৫টি ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের পক্ষ থেকে এলাকা খালি করার নির্দেশ দেওয়ার পরপরই ইয়েমেনের রাজধানী সানায় বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায় বলে জানিয়েছেন আল জাজিরার মাঠপর্যায়ের প্রতিনিধিরা। হুথি-সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমগুলোর দাবি, সৌদি নেতৃত্বাধীন বাহিনীর বিমান হামলায় রাজধানীর আল-সাবাহ এলাকার একটি তেল স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

হুথি কর্মকর্তারা আগেই এ হামলার আশঙ্কা করেছিলেন। ইয়েমেনি অয়েল কোম্পানি এক বিবৃতিতে জানায়, তাদের মজুতাগারগুলো আগেই খালি করা হয়েছিল। ফলে হামলার কারণে সাধারণ মানুষের জ্বালানি সরবরাহ বা মজুতে কোনো প্রভাব পড়বে না বলে দাবি করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

তবে জ্বালানি সংকটের আশঙ্কায় সানার পেট্রলপাম্পগুলোতে গাড়ির দীর্ঘ সারি দেখা গেছে বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।

আল জাজিরার প্রতিনিধি ইউসেফ মাওরি বলেন, ‘রাজধানী সানার এই কেন্দ্রীয় তেল স্টেশনে বিমান হামলার পরপরই আমরা বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শুনতে পাই।’

তিনি আরও জানান, সৌদি আরব লোহিত সাগরের রাস ঈসা বন্দরেও বিমান হামলা চালিয়ে জ্বালানি তেলের ট্যাংক ধ্বংস করেছে। পাশাপাশি হুথি নিয়ন্ত্রিত হোদাইদাহ প্রদেশের একটি তেল কেন্দ্রে আঘাত হেনেছে।

সৌদি জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালিকি অভিযোগ করেন, হুথিরা এসব স্থাপনা ও ভূগর্ভস্থ জ্বালানি ডিপো ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন সংরক্ষণের কাজে ব্যবহার করছিল।

বিস্ফোরণের পর হুথি মুখপাত্র জানান, সানায় সৌদি জোটের অনুগত বাহিনীর সঙ্গে ইয়েমেনি যোদ্ধাদের লড়াই চলছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় ইয়াহিয়া সারি সতর্ক করে বলেন, সৌদি জোট সানায় আক্রমণ অব্যাহত রাখলে খালি করার নির্দেশ দেওয়া অঞ্চলগুলোতে হামলা চালানো হবে।

মঙ্গলবার দহরানে আরামকোর সদর দপ্তর, রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং রাজধানীতে অবস্থিত আরামকোর একটি তেল শোধনাগার থেকে সাধারণ মানুষকে অবিলম্বে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।

এফপি/অ
সর্বশেষ সংবাদ  
সর্বাধিক পঠিত  
YOU MAY ALSO LIKE  
Editor & Publisher: S. M. Mesbah Uddin
Editorial, News and Commercial Offices: Akram Tower, 15/5, Bijoynagar (9th Floor), Ramna, Dhaka-1000
Call: 01713-180024, 01675-383357 & 01840-000044
E-mail: [email protected], [email protected], [email protected]
...
🔝